ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাখনৌয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় সারা দেশের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব দেখা যায় দেশটির ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দেও।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ভারতের ঐতিহ্যবাহি দীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দেও শুরু হয় বিক্ষোভ। দফায় দফায় পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরে শিক্ষকদের আহ্বানে বিক্ষোভ থেকে ফিরে যায় দারুল উলুমের ছাত্ররা। তবে দারুল উলুমের শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভে থেকে দূরে রাখতে মাদরাসায় পুলিশি টহল চলছে। শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহরানপুর জেলার ইন্টারনেট সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক অফিসাররা দেওবন্দের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দারুল উলুমসহ দেশের সব মাদরাসায় ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছেন।

তবে সরকারের এ আবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেওবন্দ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। তাৎক্ষনিকভাবে মাদরাসা না ছাড়তেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসিম নোমানী বলেছেন, প্রশাসনের গোপন পরিকল্পনার বিষয়ে শুরার সদস্যদের অবহিত করা হবে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে শুরার একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় মাদরাসাগুলো ছুটির দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, দারুল উলুমের মুহাদ্দিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদনাী ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্রদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।

Share This Post