আব্দুল্লাহ আল মুবিন
নির্বাহী সম্পাদক

আবারো ডাকাতের কবলে পড়লেন নন্দিত ওয়ায়েজ বিশিষ্ট লেখক কলামিস্ট মাওলানা জুবায়ের। মাহফিল শেষে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট হয়ে ফিরার পথে ঠিক রাত চার টায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার মাহফিল শেষে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মাওলানা জুবায়ের। এমন সময় হঠাৎ গাড়িতে বড় পাথরের ঢিল ছোড়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এতে গাড়ির সামনের গ্লাসটি ফেটে যায়। অল্প কিছুক্ষণের ব্যবধানে আরেকটি ঢিল আসে। ঢিলটি গাড়ির পাসের গ্লাসে এসে পড়ে। এতে গ্লাসটি একে বারেই ভেঙ্গে যায়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ড্রাইভার গাড়ি না থামিয়ে  দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েন।



এর আগে ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ভৈরবের গজারিয়া মাহফিল শেষে ঢাকা আসার পথে একই ঘটনার শিকার হন তিনি। এতে তার সাথে থাকা সব টাকা ও ড্রাইভারের সাথে মোবাইল, মাহফিল কর্তৃপক্ষ দেয়া গাড়িভাড়া ও বখশিশ, সঙ্গে থেকা টাকা মিলে প্রায় ৬০ হাজার টাকার জিনিসর নিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। মাওলানা জুবায়ের বলেন ঐ দিন ড্রাইভারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।

এ নিয়ে ফেসবুক গণমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি বলেন, মাহফিল শেষে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট হয়ে ফিরছি। তখন রাত প্রায় ৪টা। সংস্কার কাজের জন্য রাস্তা ভাঙা। গাড়ি খুব গতিতে চালানোর সুযোগ নেই। জঙ্গলের ভেতর থেকে হঠাৎ গাড়িতে বড় পাথরের ঢিল। ঢিলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো। গাড়ির সাইডে লেগেছে। এরপরই আরেকটি ঢিল। এবার একেবারেই গাড়ির সামনের গ্লাসে এসে পড়ে। গ্লাসটি শেষ। ফেটে চৌচির। আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা বুঝতে পারি যে, এটা ডাকাতের কাজ। থামিনি। গাড়ি থামাইনি। কয়েক মিটার সামনে এসেই দেখি পুলিশের গাড়ি। পুলিশ ট্রাকের ড্রাইভারের সঙ্গে লেনদেনে ব্যস্ত। আমাদের গাড়ির গ্লাস ভাঙা দেখে বুঝেছে। বলছে, ‘যান, যান!’ ভাবখানা এমন যে, ডাকাতরা যে আপনাদের ছেড়ে দিয়েছে এটা কপাল।



আমি নেমে তাদের সঙ্গে কথা বললাম। কথায় বুঝতে পারলাম, এখানকার এ ফোর্স জনগণের নিরাপত্তায় নয়, বরং ডাকাতদের নিনাপত্তার দায়িত্বে রত। তাদের যেন কিছুই করার নেই। অথচ ডাকাত ধরার ব্যাপারে তাদের ন্যূনতম আগ্রহ থাকলেও তারা ওদের খুঁজে বের করতে পারত। ওদের সঙ্গে কথা বলে লজ্জিত হলাম। এই হলো আমাদের নিরাপত্তা।

আল্লাহ হেফাজত করেছেন। পুলিশের গাড়ির টহল থাকা অবস্থায়ও যদি ডাকাতের আক্রমণের শিকার হতে হয় তাহলে সে পুলিশ দিয়ে আমাদের কী দরকার? ভালো কিছু পুলিশ অবশ্যই আছে, ভালো পুলিশেরা আমাদের সেবা দিতে কষ্ট করে এটাও ঠিক, কিন্তু এদের অবস্থা!! এখানে পুলিশকে টহলে রেখেই ডাকাতরা আক্রমণ করে! রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট রাস্তায় জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব কি এদের নেই? অসাধূ পুলিশদের ভালো করা গেলেই দেশের অনেক অন্যায় কমে যেত।

Share This Post