আজকে সবচেয়ে আলোচিত নাম সদ্য বহিষ্কৃত নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। রাজনীতির আড়ালে মাদক ও নারী বাণিজ্য করে আসছিলেন তিনি। গত (২২ ফেব্রুয়ারি) শনিবার র‌্যাব পাপিয়াকে আটকের পর থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া খবর। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাকে আদালতে তোলা হলে তার তিনটি মামলায় ৫ দিন করে মোট ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

এর আগে গ্রেপ্তার করার পর পাপিয়ার মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। ওই ফোনগুলোতে ভিআইপির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পেয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। মোবাইলগুলোতে ১১ মন্ত্রীর নাম্বার ও ৩৩ এমপির তালিকা পাওয়া গেছে। এই মোবাইল নাম্বারে পাপিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

সূত্র বলছে, শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিমানবন্দর থেকে আটকের সময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর (র‌্যাব) সদস্যদের হুমকি-ধামকি দিয়েছিলেন পাপিয়া। এমনকি তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন। তখনই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উদ্দেশ্যে বলে উঠে- আমি কে তোরা জানিস?

র‌্যাব বলছে, জাল টাকা বহনের অভিযোগেই মূলত পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, অনৈতিক ব্যবসা, ব্ল্যাকমেইলিং, সরকারি চাকরির তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ক্যাডার বহিনী লালন পালনেও পাপিয়া ও তার স্বামীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলা দিয়ে আসামীদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ রিমান্ডে এনে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবের কাছে আনার প্রক্রিয়া চলছে। কারণ পাপিয়ার অপরাধ জগতের সঙ্গে আর কার কার সম্পৃক্ততা আছে সেটি খুঁজে বের করবে র‌্যাব। এছাড়া পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও পাপিয়ার অপরাধের খতিয়ান বের করার চেষ্টা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাপিয়া দম্পতির আশ্রয় দাতারা এখন রীতিমত আতঙ্কে আছেন। কারণ পাপিয়া ইতোমধ্যে র‌্যাবের কাছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। এছাড়া আদালত তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ১৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রিমাণ্ডে নিয়ে পুলিশের জিজ্ঞসাবাদে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

র‌্যাব-১ অধিনায়ক শাফিউল্লাহ বুলবুল মানবজমিনকে বলেন, আমরা গত কয়েকদিন ধরেই পাপিয়াকে নিয়ে কাজ করেছি। আমাদের কাছে যা যা তথ্য ছিলো সব প্রকাশ করেছি। এখন তাদেরকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ রিমান্ডে এনে তদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তবে আমরা চাচ্ছি মামলাগুলো তদন্ত করতে। কারণ তাদেরকে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পাপিয়া ও তার স্বামীর সঙ্গে আরো কে কে আছে এসব বিষয় খোঁজে বের করবো।

Share This Post