করোনায় ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ, নেই কোন কাজ কর্ম কিন্তু তাতেও থেমে নেই এনজিও কর্মীদের কিস্তির টাকা আদায়।

এদিকে এনজিও কর্মীরা তাদের কিস্তির টাকা নিতে বাড়িতে এসে বসে থাকে। তারা এখন টাকা কোথায় পাবে? এভাবে দুঃখের কথাগুলো বলেছেন চট্টগ্রাম হাটহাজারী’র কাটিরহাটরসহ বেশকিছু গ্রামের হতদারিদ্র লোক।

যারা দিনে এনে দিনে খায়। কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চট্টগ্রাম নগরী সহ হাটহাজারী’র প্রতিটি গলি ফাঁকা। রাস্তায় কোন লোকজন নাই। এক রিক্সাচালক বলেন, প্রায় এক ঘন্টা রিক্সা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো একটা ভাড়াও পাইনি। লোকজন ঘর হতে বের না হওয়ার কারণে যাত্রী পাওয়া যায় না। আগে ৫০০ টাকা ইনকাম করা গেলেও এখন ২০০ টাকাও আয় করা যায় না। চিন্তা করছি কি খামু? কিভাবে কিস্তি পরিশোধ করমু? ঘর ভাড়া কই পামু?

স্থানীয় বাসিন্দা মো.কোরবান আলী বলেন, এই সংকটের সময়ে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি উত্তোলন স্থগিত করা হোক। না হয় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আরও অতিষ্ঠ হবে প্রান্তিক জনজীবন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মাঠ পর্যায়ের এনজিও কর্মী জানান, ঋণ বিতরণ করার পর উত্তোলন করার দায়িত্ব আমাদের। কেউ কিস্তি না দিলে পকেট থেকে অফিসকে দিতে হয়। আমাদেরও চাকরি বাঁচাতে হবে। সরকার কিস্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত দিলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। চাকরি করতে হলে অফিস যা বলবে আমাদের তাই করতে হবে।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হাটহাজারীতে এনজিওদের ঋনের কিস্তি বন্ধ রাখার জন্য চিঠি প্রদান করা হবে বলে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিনে দিনে এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সবশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, আরা মারা গেছেন একজন।

করোনার বিস্তার রোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। এমনকি চট্টগ্রাম জেলাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

Share This Post