এই দুঃসময়ে আমরা উলামায়ে দেওবন্দ, নিযামুদ্দিন মারকাযের পাশে থাকব। কারণ, এই মারকায ও এই মেহনত আমাদের হৃদয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই নিযামুদ্দিন মারকায আমাদের আত্মিক পিতা হযরত মাওলানা ইলয়াস রহ. এর পবিত্র আমানত।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বলয় নিযামুদ্দিনের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে খোদ ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচারে মেতেছে। নিযামুদ্দিনে বিপুল প্রাণহানীর জন্যে যদিও মাওলানা সাদ সাহেবের একরোখা মনোভাব দায়ী; কিন্তু দিল্লির রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনও সমান দায়ী।

করোনা ভাইরাসের এই সময়ে যখন নিযামুদ্দিনে ধর্মীয় জমায়েত চলছিল, একই সময়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানেও হিন্দুদের নানা জমায়েত চলেছে। অথচ সেগুলোর ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক সরকার কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

এর পাশাপাশি হঠাৎ ঘোষিত লকডাউনের ফলে আটকে পরা জনতাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার গণপরিবহণ বন্দোবস্ত করার জন্যে নিযামুদ্দিনের তরফ থেকে আবেদন সত্ত্বেও রাজ্যসরকার কোনোরূপ সহায়তা করেনি। কাজেই প্রশাসন তার দায়ভার এড়াতে পারে না।

ইতোমধ্যে মাওলানা আরশাদ মাদানি সাহেব ও মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানি সাহেব সেকথা জানিয়ে লিখিত বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

এটা আমাদের আকাবিরদের উদার মনোভাব ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুবিবেচনাবোধের ফসল। যদিও বিগত দু’-তিন বছর ধরে মাওলানা সাদ সাহেবের মুখ থেকে, নিযামুদ্দিনের মিম্বার থেকে এবং একবাক্যে গোটা এতাআতি সম্প্রদায়ের কোরাস কণ্ঠ থেকে বারবার উলামায়ে দেওবন্দকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। অসংখ্য উলামা ও তলাবাকে রক্তাক্ত-আহত-নিহত করা হয়েছে। নাস্তিকদের সুরে সুর মিলিয়ে দ্বীনি মাদারিসের বিরুদ্ধে সব ধরনের অপপ্রচার সোৎসাহে প্রচার করা হয়েছে।

তারপরও আমরা মনে করি, এগুলো তাদের নির্বুদ্ধিতা ও তরবিয়তহীনতার ফসল। দ্বীনের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সেগুলো ভুলে গিয়ে নিযামুদ্দিন মারকায ও এতাআতি সম্প্রদায়ের পক্ষে সর্বাত্মক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে পাশে থাকব। কেননা হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া বলয় এটাকে খোদ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার মিশন নিয়ে নেমেছে।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ এড়াতে ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় উলামা যখন মসজিদে জমায়েত কম করার ফতোয়া দিয়েছেন, তখনও মাওলানা সাদ সাহেব, অর্থাৎ ১৯ মার্চ নিযামুদ্দিনে বসে বয়ান করেছেন, “মসজিদে একত্র হওয়ার কারণে রোগের প্রকোপ বেড়ে যাবে, এটা বাতিল খেয়াল। বিলকুল বাতিল খেয়াল। আমি এ কথা তোমাদেরকে বলছি, যদি তোমরা তোমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখতে পাও যে, মসজিদে আসার কারণে মানুষ মরে যাবে, তাহলে মৃত্যুর জন্যে এরচেয়ে শ্রেষ্ঠ জায়গা আর হতেই পারে না। (শ্রোতাবর্গ সমস্বরে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে ওঠলো।)

হায় হায়, সাহাবায়ে কেরাম আকাঙ্ক্ষা করতেন যে, দাওয়াতের কাজ করার সময় যদি মৃত্যু আসতো। নামাযের মধ্যে যদি মৃত্যু আসতো। আর এরা (ফতোয়াদাতা উলামায়ে কেরাম) নামাযের মাঝে শংকা দেখছে। এরা আযাব সরিয়ে দেওয়ার জন্যে নামায ত্যাগ করে পলায়ন করছে। কত উল্টো বুদ্ধি এদের।”

এটার পুরো অডিও আমাদের কাছে আছে।
নিজের কম ইলমের কারণে সাদ সাহেব বারবার এমন ভুল বয়ান দিয়েছেন এবং মাসআলাগত বিরোধকে ইহুদি-নাসারাদের দালালি বলেছেন।

তারচেয়েও দুঃখের বিষয় হলো, মাত্র চার দিন আগে অর্থাৎ ২৮ মার্চ নিযামুদ্দিনের মিম্বার থেকে হায়াতুস সাহাবার তালীম শেষে রুজুর আহবানকারী উলামায়ে দেওবন্দকে ইঙ্গিতে ‘উলামায়ে সু’ বলা হয়েছে। পুরো অডিও আমাদের কাছে আছে।

এরপরও মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে এবং গেরুয়া সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক উম্মাহর চেতনা থেকে আমরা নিযামুদ্দিন মারকাযের পাশেই থাকব ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা দ্বীনের সমস্ত মারকাযের হিফাজত করুন। ব্যক্তির ভুলের দায়ভার থেকে নিরীহ মুসলমান ও পবিত্র জামাতকে রক্ষা করুন। সমস্ত তাবলীগি ভাইকে সহিহ নাহজে দ্বীনের মেহনত আঞ্জাম দেওয়ার তাওফিক দিন। চলমান ঘটনাপ্রবাহ থেকে আমাদের নসিহত গ্রহণ করার তাওফিক দিন। আমিন।

Share This Post