বিশিষ্ট আলেম, লেখক কলামিস্ট, ইতিহাস গবেষক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, আল্লামা হাফিজ যুবায়ের আহমদ আনসারী রহ. এর জানাজায় বেশী লোকসমাগম হওয়ায় একচোখা মিডিয়া গুলো আলোচনার একটি খোরাক পেলো। যারা শত জমায়েত নিয়ে নীরব আর ইসলামী কিছু পেলে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে। সমালোচনা যে কেউ করতে পারেন। আমরাও করবো। তবে তা হতে হবে যৌক্তিক ও ন্যায়ানুগ।

আমি এখানে কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই।
যার ইচ্ছা উত্তর খুঁজে বের করে নিজের কাছেই জমা রাখুন । করোনার পরেও বাঁচলে ভবিষ্যতে কোনোদিন কাজে লাগাতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

১.করোনাকালে লকডাউন চলছে জেনেও জনপ্রিয় ও বিখ্যাত কোনো ব্যক্তির জন্য এসময় মৃত্যুবরণ করা কি অন্যায়। আর তার নিজের প্রতিষ্ঠানের মাঠে, যেখানে দাফনও হবে, সেখানে কি একটি জানাজা করা হবে না।

২. রেডিও টিভি প্রিন্ট মিডিয়া সাধারণত যাদের পজেটিভ নিউজ দেয়না। এমন একজন মানুষের মৃত্যু সংবাদ প্রচার, মাইকিং বা আহ্বান ছাড়া যদি লাখো মানুষ ছুটে আসে, তাহলে এর দায় কার।

৩. বিখ্যাত একজন ব্যক্তি হিসাবে দাফনের আগে তাঁর জানাজা ও সহনীয় পরিমান সংখ্যক নিকটজনদের উপস্থিতির অনুমতি প্রশাসন থেকে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম মতো শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টাও করা হয়েছে। এটি কি ভুল কাজ।

৪. পুরা বিবাড়িয়া ও আশেপাশের ৫/৭ জেলার লোক লকডাউন এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকা সত্বেও ২০ থেকে ১২০ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে এলো কীভাবে। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া আর্মি পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন তাদেরকে বাধা দেয়নি কেন।

৫. বলা হচ্ছে, এতো লোক হবে কেন। ইসলামী নেতা ও জনপ্রিয় ওয়ায়েজ হলেই কি জানাজায় এমন দুঃসময়ে এতো লোক হতে হবে। তাদের ভাষায়ই, বিশ্বরোড থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত পদচারী লোকে লোকারন্য হলে কি রাস্তায়, ‘হাজার হাজার’ লোক হয়। কমপক্ষে আড়াই লাখ লোক হয়েছে। স্বাভাবিক দিনে হলে লোক হতো না হলেও ৫/৬ লাখ।

৬. করোনাকালে অন্য কোনো সেক্টরের যে কোনো পালের গোদা মরে দেখুক না, কতজন লোক হয় জানাজায়। ওদের তো মিডিয়া আছে, গাড়ি ঘোড়া ও পয়সাকড়ি আছে।

৭. এমন দুঃসময়ে এতো লোক কেন এমন পাগলের মতো ছুটে এলেন, এটি তাদেরই বিশ্লেষণ করা উচিৎ। ভালোবাসা ও আবেগ খুবই সত্যি একটি বিষয় তবে বিশ্ব পরিস্থিতি, দেশ ও জাতির এমন শঙ্কা পূর্ণ অবস্থা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি, শরীয়ত ও আইনের নিষেধাজ্ঞা থাকাবস্থায় তারা এমনটা কেন করলেন। লকডাউন ও আশঙ্কার দিনগুলোতে তারা তাদের মনের ভার কমাতে এভাবেই প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছিলেন। মনের চাপ হালকা করে ফিরে গেছেন ঘরে। দেশের মানুষ এর ফলে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হবে, তা নিয়ে ভাবতে রাজি হননি তারা। এটা এক ধরনের সমস্যা।

৮. ইনশাআল্লাহ, মানুষের এ অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আবেগ এদেশে ইসলামের জন্য একটি ভালো নমুনা। দীনকে বিজয়ী করার জন্য একটি ভালো শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এই অদম্য মনোবলের পরিকল্পিত সদ্ব্যবহার করা যোগ্য নেতৃবর্গের কর্তব্য।

৯. কেবল মোবাইল ফোন আর নেটে একটি জানাজায় প্রাণঘাতী মহামারী ছড়িয়ে পড়ে মরার ও আপনজনদের মারার ভীতিকে জয় করে যদি ২/৩ লাখ সমমনা লোক জমা হয়ে যায়। পায়ে হেটে বা জোড়াতালি পরিবহনে। নিষিদ্ধ সময়ে। মফস্বল শহরে। তাহলে শত্রুদের মনে শঙ্কা থাকতেই পারে, এ শক্তিটির ঐক্য ও বিপ্লবী চেতনাকে। এভাবেই একদিন এরা দেশ জাতি ঈমান ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রয়োজনে একটি নতুন পথে হাটা ধরবে। হতে পারে না এমন।

১০. করোনার ভবিষ্যত অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ভয়াবহ অবস্থার বদনাম আলেম বা ধর্মের ওপর চাপিয়ে দেয়ার খারাপ নিয়তে কি কেউ ইচ্ছা করেই এতো বড়ো গ্যাদারিং হতে দিয়েছে। কোনো পর্যায়েই কোনো বাধা দেয়নি। এসব মানুষ তো বাধা মেনে মসজিদেও যায়না। জানাজায় বাধা পেলেও যেতো না। তাহলে এ অপশক্তিটির দোষ ১০০%।

আর আলেমদের এমনিতেই যথেষ্ট বদনাম করে রাখা হয়েছে, নতুন করে আর খুব একটা বদনাম করার সুযোগ নেই। যারা এমন চক্রান্ত করে, ইনশাআল্লাহ তারাই নিজেদের খোঁড়া গর্তেই পড়ে যাবে। আলেমদের যতই বদনাম করা হোক, তাদের জানাজায় দিন দিন লোক আরো বেশী করে আসবে। এটাই বাংলাদেশ। এমনিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই জানাজা গণজাগরণে আমার বিচারে লোকজনের দোষ যদি ০০.১% হয়, তাহলে দাশিত্বশীল কর্তৃপক্ষের দোষ ৯৯.৯%। জানিনা আপনারা কী বলবেন।

জুবায়ের আনসারীর জানাযায় মানুষের ঢল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮ গ্রাম লকডাউন

Share This Post