আব্দুল্লাহ আল মুবিন

একজন দিলখোলা মানুষ ছিলেন মলাই সাহেব। সব সময় হাসিখুশি থাকতে। পকেটে সবসময় চকলেট রাখতেন, ছোট বাচ্চাদের কে দেখলেই আদর করে একটি চকলেট হাতে দিয়ে নামাজের দাওয়াত দিতেন। বিশেষ করে তিনি তার বয়ানের মাধ্যমে মানুষকে মুগ্ধ করতে পারতেন। হাজার হাজার যুবক তার দাওয়াতে মাধ্যমে হেদায়েতের আলো পেয়েছে।

তিনি এভাবে চলে যাবেন এটা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। নিজের পুরোটা জীবন দ্বীনের কাজে ব্যয় করেছেন। সেই ১৯৬৫ সাল থেকে দ্বীনের খেদমতে লেগে আছেন। মৃত্যু অবধি এই কাজের সাথেই ছিলেন। আল্লাহ ভীরু এই দ্বীনের খাদেমের মৃত্যুর পরে তাঁর চেহারায় যেন নূর চমকাচ্ছিল। মেহেদিরঙিন শশ্রুমণ্ডিত মুখখানি নূরে ঝলমল করছিল।

হযরতজ্বী এনামুল হাসান সাহেবের সংস্রবে থেকে মেহনত করেছেন। কাছ থেকে তাদেরকে দেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে কেবল কিশোরগঞ্জ নয় বরং পুরো দেশ জুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে। উনি কিশোরগঞ্জে তাবলীগের প্রধান শুরা সদস্য ছিলেন। দিল কেড়েছেন দেশের হাজারো উলামায়ে কেরাম ও তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বীদের।

উনার মৃত্যুর খবর শুনে কাকরাইলের মুরুব্বী মাওঃ রবিউল হক সাহেবসহ দেশের আরো অনেক উলামায়ে কেরাম আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু জানাজায় অতিরিক্ত লোক সমাগমের ব্যাপারে প্রশাসন কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও সকলকেই আসতে নিষেধ করা।

সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতিটা দেখতে হয়েছে জানাযায় স্থলে। মলাই সাহেবের স্ত্রী ও দুই মেয়ে দাড়িয়ে ছিলেন মানুষটাকে একটি বার দেখার জন্য, কিন্তু প্রশাসনের কঠোরতার কারণে সেটা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

Share This Post