পাথেয় মাওলানা মাসউদ সম্পাদিত একটি পত্রিকা। তাবলিগে বিভক্তির পর বেশ কিছু লেখায় আলেমদের সমালোচনা করেছে পত্রিকাটি। ইদানীং পত্রিকাটি মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবকে বেঙ্গ করে বেশ উঁচু গলায় হাক ডাক ছাড়তে দেখা যাচ্ছে।

এসব পোর্টাল পড়ার মত রুচি আসেনি কখনো। এসব পোর্টাল কোন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ পড়ে না। সাদ পন্থী দালাল পত্রিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম পাথেয়, ভোরেরপাতা, এবং দেশের পত্র। এখানে দেশের পত্র পত্রিকার প্রকাশক কারা এটা যারা জানেন তারা অবশ্যই বুঝবেন সাদ পন্থীরা কাদের বন্ধু।

মাওলামা আব্দুল মালেক কীর্তিমান এক মনীষী। আপন প্রতিভায় ভাস্বর। গবেষণা ও লেখনীর মাধ্যমে এতি মধ্যে কেড়ে নিয়েছেন দেশ ও দেশের বাইরের হাজার হাজার ইলম পিপাসুর হৃদয়।

তার শ্রদ্ধেয় উস্তায মাওলানা আবদুর রশিদ নুমানি, শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, শায়খ মুহাম্মদ আওয়ামা, মুফতি তাকি উসমানিসহ অনেক বড় বড় মনীষী তার ইলমী যোগ্যতা, মেধা ও গবেষণার প্রশংসা করেছেন।

এ দেশের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি ও সমকালীন আলেমদের কাছেও বরাত ও গ্রহনযোগ্য নাম আবদুল মালেক।

কিন্তু দেশের অতি ক্ষুদ্র একটি মহল যারা নিজেদেরকে ‘ইলমী মহল’ হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকে, তাদের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যেই তাঁর দিকে কাদা ছোড়ার চেষ্টা করা হয়। এবং এতে কখনো কখনো সরল চিন্তার সাধারণ মানুষ অস্থিরতার শিকার হন।

পাথেয় পত্রিকার কিছু মন্তব্যের জবাব:

☆ আকাবিরদের কি আমরা দলিলের ভিত্তিতে মানবো নাকি অন্ধ অনুসরণ করবো। দালিলিক আলাপ করলেই সালাফিদের টানা কতটা উচিৎ?

☆ সা’দ সাহেব যে বিভ্রান্ত এ ব্যপারে দেওবন্দের সকল উলামায়ে কেরাম একমত এমনকি কোন হক্কানি আলেম এর বিরোধিতা করেছেন বলে জানা নাই। তবে শুধু ফরীদুদ্দীন মাসুদ সাহেব সা’দপন্থীদের পক্ষ নিয়েছেন। যাদের ভ্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে দেওবন্দ সহ সকল ওলামায়ে কেরাম একমত তাদের পক্ষ নিয়ে কিভাবে ফরীদ সাব দেওবন্দের অনুসারী থাকেন? যদি তিনি বিভ্রান্ত দলের পক্ষ নেন তাহলে তিনি কোন দলের হবেন? হক্বপন্থী না বিভ্রান্ত? এটা সকলেরই জানা আছে। তাই নতুন করে তার ভ্রান্ত হওয়ার জন্য কোন দলীলের প্রয়োজন নাই।

☆ আসলে এসব চামচাদের কথায় কি বা আসে যায়!! ফরিদ উদ্দিন মাসউদের গোমরাহি এদের নজরে কখনোই পরবেনা। প্রত্যেক গোমরাহ লোকই নিজেদের হক্ব মনে করে।

☆ এক মাসলাকের মানুষের ভেতর আমরাই যদি একতাকে এভাবে অসম্ভব করে তুলি তাহলে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য কী করে সম্ভব হবে? আর ফউমা তো এটাই চায়, ঐক্য নষ্ট হোক। তার শান্তির ফতুয়া লেখার উদ্দেশ্যই এটা।

তার লেখা শান্তির ফতোয়া যায় আমেরিকায়! যায় জাতিসংঘে! যায় পোপের কাছে। তার পরিকল্পিত সম্মেলনে মক্কা ও মদীনার ইমামদের পাশাপাশি দালাইলামা আর পোপ তাদেরকেও দাওয়াত দেওয়ার চিন্তা করেছিলেন। কতটা হাস্যকর বিষয়!

এখন ফরিদ উদ্দিন মাসুদের দরকার হল মুসলমানদের মধ্যে মারামারি, হাতাহাতি। এমনকি মসজিদে মসজিদে মারামারি। এজন্য উনি এতাআত গ্রুপকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাতে তিনি প্রমাণ করতে পারবেন, দেশে জঙ্গী সন্ত্রাস আছে এবং একে দমন করতে পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপের দরকার। আর সেটি বাস্তবায়ন করার জন্য তার ছেলেই যোগ্য।

ঐযে বল্লাম না ফউমার গোমরাহি এদের নজরে পরে না। পরলেও এড়িয়ে যায়। প্রত্যেক গোমরাহ লোকই নিজেদের হক্ব মনে করে।

☆ মাওলানা আবুল ফাতাহ রহ.এর স্মারকে মাওলানা আব্দুল মালেক ছাহেব যা লিখেছেন আমি মনে করি তিনি ঠিকি লেখেছেন, হক কথা বলতে তিনি এতে বিন্দু মাত্রও কার্চুপি করেন নি। আর বড়দের জন্য এটা উচিতও নয়। আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লা সত্য প্রচারে সব চাইতে এগিয়ে।

☆ ফরীদ ছাহেবের দ্বীনী মেজায যে পরিবর্তন হয়েছে এটা আজ বাংলাদেশের জমহুর উলামায়ে কেরামসহ জনসাধারণের নিকটও দিবালোকের স্পষ্ট।

এই তো গত বৎসর আল্লামা তকি উসমানী সম্পর্কে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে হাতেনাতে ধরা খেয়ে ছিলো। এটা কি মাসুদ পন্থীরা অশিকার করতে পারবে।

মাসদের মূর্খ শিষ্যরা তার সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছে তা দিয়ে তাকে চিনাতে চাচ্ছেন হয়তো। তা দিয়ে তাকে চিনাতে যাওয়া চরম মূর্খতা।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বহু বছর ধরেই হক পন্থী কওমি উলামায়ে কেরামদের বিরোধিতা করে আসছে।
২০১৮সনের পহেলা ডিসেম্বর টঙ্গীর ময়দানে তার নেতৃত্বেই একদল সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা করে। এতে ময়দানে কর্মরত পাঁচ হাজার কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসল্লি আহত হয়। শাহাদাতও বরন করেন অনেকে। যা আজ কেবলই ইতিহাস। কেইস মামলাও তো কম হলো না। আন্দোলন করে রাজপথ কাপালেন উলামায়ে কেরাম। ফাসি চেয়ে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে দেওয়া হলো দেশ। কে কার কথা শুনে! সবই তো এক নৌকার মাঝী।

এর আগে ২০১৩ সনে ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক ব্লগারদের সাথে শাহবাগে গিয়ে তাদেরকে সমর্থন জানিয়ে শাহবাগী ফরিদ নাম ধারন করে। এসব কারনেই বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বড় বড় উলামায়ে কেরাম তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।
আফসোস এসব দেখার পরও আমাদের সমাজের কিছু অন্ধ তার অনুসরণ করে।

জাহেল-মূর্খরা অনেক কিছু হতে পারে,
হতে পারে নাস্তিক শাহাবাগী,
কিন্তু কোন ‘আলিম’ কি হতে পারে ইসলামের ‘বাগী’!
সাহাবাগের সহযোগী!

আসলে হিদায়াত তোমার হাতে হে আল্লাহ্!

মতামত একান্তই লেখকের, এর জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

Share This Post