Spread the love

ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা। কিন্তু অভাব তাঁর মেধাকে দমিযে রাখতে পারেনি। তাই দারিদ্র‌্যের বাধা টপকে আর বছর পাঁচেক পর গলায় স্টেথো নিয়ে ঘুরবেন চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আমতলা গ্রামের মহম্মদ কমিজউদ্দিন।

তবে ছেলের এই রূপকথার উড়ানে ঘুম উবে গিয়েছে রিকশাচালক বাবার। ডাক্তারি পড়ানোর খরচ কীভাবে জোগাড় হবে সেই চিন্তায় দিশাহারা তিনি।

মহম্মদ সিদ্দিক শিলিগুড়িতে রিকশা চালান। কোনও জমিজমা নেই। সারাদিন রিকশা চালানোর হাড়ভাঙা খাটুনির পয়সায় পাঁচজনের সংসার চলে। দুই ছেলে, এক মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে সংসার সিদ্দিক সাহেবের।

ছোট ছেলে কলেজ পড়ুয়া। মেয়ে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। মেধাবী কমিজউদ্দিন কোনওরকম কোচিং ছাড়াই বাড়িতে বসে নিজের চেষ্টায ডাক্তারিতে সুযোগ পেয়েছেন। দ্বিতীয দফার কাউন্সেলিংয়ের পর রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তির ডাক পেয়েছেন তিনি।

নিটে অল ইন্ডিয়া র‌্যাংকিংয়ে ৩৪৩৪০-এ স্থান পেয়েছেন কমিজউদ্দিন। বুধবার সুযোগ সংক্রান্ত চিঠি হতে পেতেই বৃহস্পতিবার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রামপুরহাটে রওনা গিয়েছেন তিনি।

চোপড়া হাইস্কুলের ছাত্র কমিজউদ্দিন ২০১৮ সালে উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। অঙ্কে অনার্সে ভর্তি হলেও তাতে মন বসাতে পারেননি।

স্নাতকের পড়াশোনা ছেড়ে বাড়িতে বসেই নিটের জন্য আদাজল খেয়ে প্রস্তুতিতে লেগে পড়েন। বাবা সিদ্দিক সাহেব বলেন, এতদিন ছেলে বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়েছে। এক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হযনি

। কিন্তু এবার ছেলেকে বাইরে থাকতে হবে। ডাক্তারি পড়ার খরচ কীভাবে জোগানো যাবে এই চিন্তায় ঘুমোতে পারছি না। এই অবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।

সিদ্দিক সাহেবের প্রতিবেশী হাবিবুল রহমান বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সিদ্দিক সাহেব। কোনও সন্তানকেই টাকার অভাবে টিউশনি পড়াতে পারছেন না।

চোপড়া হাইস্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শুভেন্দু পাল বলেন, কমিজউদ্দিন প্রথম থেকেই ভালো ছাত্র ছিল। মাধ্যমিকে জীবনবিজ্ঞানে ১০০ তে ১০০ পেয়েছিল। অর্থের অভাবে বাইরে পড়া সম্ভব হযনি।

চোপড়া হাইস্কুলেই উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিল। তার এই সাফল্যে আমরা সবাই গর্বিত।

উচ্চমাধ্যমিকের পর অঙ্কে অনার্স নিয়ে মাটিগাড়া আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র কলেজে ভর্তি হন তিনি।

সেখান থেকে একমাসের মধ্যেই বাড়িতে ফিরে এসে কমিজউদ্দিন জানান, ভালো লাগছে না।

স্নাতক স্তরে আর পড়া সম্ভব নয। ডাক্তারি পড়তে প্রস্তুতি নেবেন। অবশেষে তাঁর প্রস্তুতি পূর্ণতা পেল।

ডাক্তারিতে চান্স পাওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্রামীণ এলাকার গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান হবু ডাক্তার মহম্মদ কমিজউদ্দিন।

Share This Post