সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অনেক ব্যবহারকারীকে নতুন একটি নোটিফিকেশন দিয়েছে। ওই নোটিফিকেশনে বলা হয়েছে, ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ‘ফেসবুক প্রোটেক্ট’ নামে একটি ফিচার ‘টার্ন অন’ বা ‘চালু’ না করলে অ্যাকাউন্টটি লক হয়ে যাবে। গতকাল বুধবার (১৩ অক্টোবর) বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নোটিফিকেশন পাবার পর ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ফেসবুক প্রোটেক্ট কী এবং কীভাবে কজ করে। এ বিষয়ে ফেসবুকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে যে, ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে ফেসবুক প্রোটেক্ট নামে নতুন একটি ফিচার আনছে তারা। এটি একটি ভলানটারি (ঐচ্ছিক) প্রোগ্রাম যা নির্বাচনী প্রার্থী, তাদের প্রচারণা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অ্যাকাউন্টকে বাড়তি সুরক্ষা দেবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির নির্বাচনের সময় সেখানকার প্রার্থীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় এই প্রোগ্রামটি তৈরি করা হয়েছিল। পরে এটি কানাডাতেও চালু করা হয়। তবে ২০২১ সালে এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য সরবরাহ করা হবে বলেও জানানো হয়। এ বিষয়ক আপডেটও ফেসবুকের মাধ্যমেই জানানো হবে বলে ফেসবুক জানায়।

নতুন এই ফিচারের বিষয়ে ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপনার অ্যাকাউন্টটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে আপনার শক্তিশালী নিরাপত্তা দরকার। নতুন এই ফিচারে মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবহার আরও জোরদার করা সম্ভব। ফেসবুক প্রোটেক্ট চালু করার সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে লার্ন মোর অপশনে গেলে সেখানে ফেসবুক প্রোটেক্ট কেন জরুরি সে বিষয়ে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, হ্যাকাররা সব সময় সেই অ্যাকাউন্টগুলোর প্রতিই আগ্রহী হয়, যেগুলোতে অনেক বেশি ফলোয়ার থাকে, যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ পেইজ পরিচালনা করে কিংবা যার কমিউনিটি সিগনিফিক্যান্স বা গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের টার্গেটেড অ্যাটাক বা উদ্দেশ্যপূর্ণ হামলা রোধ করতেই উন্নত নিরাপত্তার এই প্রোগ্রামটি চালু করার অনুরোধ করেছে ফেসবুক।

ফেসবুকের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, যারা এই ফিচারটি চালু করতে পারবেন তারা ফেসবুকের মাধ্যমেই তা জানতে পারবেন। তারা সেটিংসে গিয়ে সিকিউরিটি অ্যান্ড লগ-ইন করে ফেসবুক প্রোটেক্ট চালু করতে পারবেন। ফেসবুক প্রোটেক্টের ব্যাপারে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বিবিসি বাংলাকে বলেন, ফেসবুকের এই ফিচারটি অ্যাকাউন্টের মৌলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো যেমন ইউজার নেম, পাসওয়ার্ড বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশনের পাশাপাশি আরও কিছু বাড়তি নিরাপত্তা দেবে।

এ সময় তিনি বলেন, এর পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টধারীর পেইজে কোনো পোস্ট আসার আগে ফারদার (আরও) অথেনটিফিকেশন (যাচাই) হয়ে আসবে। যাতে ওই অ্যাকাউন্টটিকে আর কেউ অ্যাবিউজ করতে না পারে, থ্রেট (হুমকি) থেকে রক্ষা করতে এই উদ্যোগ।

Share This Post