আদালতে মামলা করায় থানায় নিয়ে রাতভর ওসির নি’র্যাতন!
23/09/2021 Alamin Islam
আদালতে মাম’লা দায়ের করায় থা’নায় নিয়ে বাদীকে রাতভর নি’র্যাত’ন করেছেন বর’গুনা থা’নার ওসি। বুধবার দুপুরে বরগুনা প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী বিনয় চন্দ্র শীল। বিনয় চন্দ্র শীল পেশায় একজন দরিদ্র নরসুন্দর। তার বাড়ি সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আমতলা-মাইঠা গ্রামে।

সংবাদ সম্মেলনে বিনয় চন্দ্র শীল বলেন, সম্প্রতি বরগুনার আদালতে তিনি বালিয়াতলী ইউনিয়নের সাবেক নারী ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা খালেদা ইসলাম সুইটিকে বিবাদী করে অলিখিত র‌্যাপ কাগজ (কার্টিজ পেপার) উদ্ধারের একটি মাম’লা দায়ের করেন তিনি। মা’মলার পরি’প্রেক্ষিতে বিনয় চন্দ্র শীলের স্বাক্ষর করা ওই অ’লিখিত র‌্যাপ কাগজ উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ওই মা’মলা তুলে নিতে খালেদা ইসলাম সুইটির পক্ষ নিয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাইঠা স্ট্যান্ড থেকে জোরপূর্বক তাকে পু’লিশ থা’নায় ধরে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাত পর্যন্ত বরগুনা থা’নার ওসি তারিকুল ইসলাম তাকে নি’র্যাত’ন করেন। তাকে বৈদ্যুতিক শ’কসহ নি’র্ম’ম নি’র্যাত’নের বর্ণনা দেন তিনি।

এ সময় খালেদা ইসলাম সুইটিসহ তার বিরোধীয় পক্ষের লোকজন থা’নায় উপস্থিত ছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান বিনয় চন্দ্র শীল। নি’র্যাত’নের কারণে বিনয় চন্দ্র শীল বর্তমানে হাঁটতে পারছেন না এবং মে’রুদণ্ডের ব্যথায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে চিকিৎসার জন্য তিনি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যাবেন বলেও জানান।

বিনয় চন্দ্র শীল আরও জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তার স্ত্রী ও মা’দকাস’ক্ত অবাধ্য ছেলেদের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে সালিশ বৈঠক হলে খালেদা ইসলাম সুইটি রোয়েদাদ লিখবেন বলে অলিখিত র‌্যাপ কাগজে (কার্টিজ পেপার) তার স্বাক্ষর নেন। পরে তার স্বাক্ষরযুক্ত ওই অলিখিত র‌্যাপ কাগজে জোরপূর্বক ও অন্যায়ভাবে তার ছেলে ও স্ত্রীর নামে জমি লিখে দিতে বলেন তিনি।

এতে তিনি রাজি না হয়ে তার স্বাক্ষরযুক্ত অলিখিত র‌্যাপ কাগজ ফেরত দেওয়ার জন্যে বারবার অনুরোধ করেন। ফেরত না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি বরগুনার আ’দালতে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে বিবাদী করে তার স্বাক্ষরযুক্ত ওই অলিখিত র‌্যাপ কাগজ উদ্ধারের একটি মা’মলা দায়ের করেন।

বিনয় চন্দ্র শীল আরও বলেন, পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেবে, তা না দিয়ে উ’ল্টো প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়ে তারা তাকে নি’র্যাত’ন করেছেন। তিনি এ ঘট’নার বিচার চান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিনয় চন্দ্র শীলের বৃদ্ধ বাবা বলরাম চন্দ্র শীল (৭৫) বলেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে বরগুনা থা’নায় কোনো মামলা নেই। কোথাও কোনো অভিযোগও নেই। তারপরও তার ছেলেকে এভাবে অন্যায়ভাবে নি’র্যাত’ন করার বিচার চান তিনি।

বিনয় চন্দ্র শীলের একজন প্রতিবেশী মো. শহিদুল ইসলাম স্বপন (৪৮) বলেন, বিনয় চন্দ্র শীলের সঙ্গে তার স্ত্রী কাজল রানীর কল’হের জের ধরে তার ছেলে বিশ্বজিৎ শীল (২২) প্রায়ই তার বাবাকে মারধর করে থাকে। এসব বিষয় নিয়ে তারা অনেকবার তাদের মী’মাং’সা করার চেষ্টা করেছেন।

এ বিষয়ে খালেদা ইসলাম সুইটি সাংবাদিকদের জানান, তার বি’রুদ্ধে বিনয় চন্দ্র শীল যে অ’ভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। তাদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় সালিশ হয়েছে। রোয়েদাদ লেখার কাজ চলছে। এ বিষয়ে ব’রগুনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ওই রাত ১০টা থেকে অন্যত্র ব্যস্ত ছিলেন।

এ সময় পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম মা’মলার বাদী বিনয় চন্দ্র শীল এবং বিবাদী খালেদা ইসলাম সুইটিকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত মী’মাংসা হয়নি। এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিক জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে তারপর ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

Share This Post