খোলা আকাশের নিচে ভিটায় পড়ে আছে কাঠের ভাঙ্গাচোরা চোকি, কাঁথা-বালিশ ও হাড়ি-পাতিল। এসব আসবাবের ওপরে নেই ছাদ।

তিন বছর আগে কালবৈশাখী ঝড় উড়ে নিয়ে যায় মাথা গোজার ছাপড়া ঘরটি। এরপর পরের ঘরে কাজ করেও সেই ঘর আর তুলতে পারেননি।

ঘর মেরামতের জন্য জমানো টাকাও চুরি করে নিয়ে গেছে চোর। সেই থেকেই কখনও অন্যের বাড়ি, কখনো পথের ধারে আবার কখনো বা সেই ভাঙ্গাচোরা টিনের ফাঁকে রাতযাপন করেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাতুলী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা নারী শিরিন খাতুন। একটি ঘরের জন্য বারবার ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যনের কাছে ঘুরেছেন।

কিন্তু কিছুই মেলেনি! বর্তমানে অসহায় জীবনযাপন করছেন এই নারী। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে পারিবারিক কলহের কারণে তালাক দিয়ে শিরিন খাতুনকে বাড়ি থেকে বের করে দেন স্বামী সিরাজুল ইসলাম। তিন মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে তার ঠাঁই হয় বাবার বাড়ি কাতুলী গ্রামে।

বাবার পৈত্রিক অংশে পাওয়া ৫ শতক জায়গার ওপর জমানো কিছু টাকা দিয়ে একটা ছাপড়া ঘর তোলেন তিনি। কিন্তু বছর তিনেক আগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় শিরিন খাতুনের সেই বসতঘর। এরপর খেয়ে না খেয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে ৫ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন ঘর মেরামতের জন্য।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; মারা যাওয়া প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে দেখতে গেলে ভাঙ্গাচোরা ঘরের এক কোণে লুকিয়ে রাখা সেই টাকাগুলো চুরি করে নিয়ে যায় চোর! এখন গৃহকর্মীর কাজ করে পেটের ক্ষুধা মিটলেও শিরিন খাতুনের নির্ঘুম রাত কাটে পথে পথে বা অন্যের বাড়ির বারান্দায়! কান্নাজড়িত কন্ঠে শিরিন খাতুন বলেন, ‘আমার জন্মই আজন্ম পাপ। সইলো না স্বামী সন্তানের সুখ।

এখন শেষ বয়সে এসে অন্যের বাড়ি অথবা রাস্তার ধারে রাত কাটাতে হয়! সারাটা জীবন শুধু কষ্ট করে গেলাম! একটা নতুন ঘরের আশায় কতবার মেম্বর-চেয়ারম্যানকে বললাম, কিন্তু পেলাম না! অথচ যাদের প্রয়োজন নেই তারা সরকারি ঘর পায়! আর কতো কষ্ট করলে আমি সরকারি ঘর পাবো?’ এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রোকন উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, সত্যিই শিরিন খাতুন অসহায় নারী।

তার কাছে কয়েকবার ভোটার আইডি কার্ড চেয়ে পাইনি। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানাব। এছাড়া সরকারি যে কোনো সহযোগিতা পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা করব। ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমার কাছে এসে কেউ খালি হাতে ফেরে না।

বিষয়টি আমার জানা নেই। আর এখন সরকারিভাবে ভূমিহীনদের গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। যেহেতু তার জমি আছে এবং অসহায় সেহেতু বিস্তারিত জেনে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব

আরো পড়ুন: নিজ হাতে কোরআনের পাণ্ডুলিপি লিখলেন ৭৬ বছরের বৃদ্ধা !

পুরো নাম জায়নাব আব্দুল গনি মুহাম্মাদ হুসাইন। সাত বছরের কর্মসাধনায় তিনি পবিত্র কোরআনের ৩০টি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন।পুণ্যবতী এ নারী মিশরের মিনিয়া প্রদেশের আল-তালিন গ্রামের অধিবাসী। তিনি ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন।

জীবনসায়াহ্নে এসে নিজ হাতে পবিত্র কোরআনের ৩০টি পাণ্ডুলিপি লিখে তিনি অনন্যতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার পাঁচ ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। আমার পিতা সম্পূর্ণ কোরআনের হাফেজ ছিলেন। তিনি এডুকেশন সেক্টরে কাজ করতেন। আমি প্রায় ৭ বছর পূর্বে কোরআন লেখার কাজ আরম্ভ করি।

সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ করার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সময়স্বল্পতা ও আনুসাঙ্গিক বিভিন্ন কারণে পরিনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ পারা মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য আমার সবসময় খুব দুঃখবোধ কাজ করে।কিন্তু আমাদের এলাকার একজন নারী আমাকে পবিত্র কোরআন নিজ হস্তাক্ষরে লেখার জন্য পরামর্শ দেন।

তার পরামর্শ আমাকে বেশ অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকে আমি প্রতি রাতে ঘুম থেকে উঠে প্রথম ৬ দিনে এক হাজার আয়াত লিখি। এতে আমার আগ্রহ আরো বেগ পায়। তাই সম্পূর্ণ কোরআন লেখায় মনোনিবেশ করি। গুরুত্ব ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমি মাত্র ২৫ দিনে সম্পূর্ণ কোরআন লিখে শেষ করতে পেরেছি।

আমার সন্তান ঈমান ওমরার যাওয়ার সময় সঙ্গে করে একখণ্ড পাণ্ডুলিপি নিয়ে যাবে। আশা করছি, পবিত্র কোরআনের বিশেষজ্ঞরা আমার তৈরিকৃত পাণ্ডুলিপিটি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করবেন।

আরো পড়ুন: খোশ আমদেদ মাহে রমজানুল মোবারক !

খোশ আমদেদ মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের বাণী নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের দুয়ারে আবারও উপস্থিত হয়েছে পবিত্র রমজান। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এ তিন ধাপে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে।

সারা বছর জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে তারা যে পাপ করেছে, তা থেকে ক্ষমা পাওয়ার মোক্ষম মাস হল এ রমজান। সিয়াম সাধনার দ্বারা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তারা নাজাতের পথ খুঁজবে। হাজার রজনীর শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর রমজান মাসকে করেছে বিশেষভাবে মহিমান্বিত। এ রাতেই রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) ওপর সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন।

কুরআনের শিক্ষা হল বিশ্বাসী মানুষকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে অশেষ কল্যাণ দান করা। কৃচ্ছ্রসাধন ও আত্মসংযমের এ মাসে তাই সংসারি মানুষ আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার ওয়াদা করে, তাদের সবরকম গুনাহ্ মাফ করে দেওয়ার আকুল প্রার্থনা জানায়। এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের কঠোর ত্যাগ, ধৈর্য, উদারতা ও সততা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এবার করোনা পরিস্থিতে রমজানে তারাবির নামাজে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিতে বলা হয়েছে। সবাইকে এ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানের উচিত করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করা। মহান আল্লাহ আমাদের এই বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করুন। আমরা প্রতি বছরই দেখি, রমজানে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সততা আর ন্যায়নীতি ভুলে অতি মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় নামে। তারা রমজান মাসকে মুনাফা লোটার প্রায় হাতিয়ার করে ফেলে।

জানা গেছে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও এবারও রমজান ঘিরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে কারসাজি শুরু করেছে। যথেচ্ছভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর এই প্রবণতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কৃচ্ছ্র আর আত্মশুদ্ধির বিপরীতে নিয়ে গেছে যেন। রমজানের সংযমের শিক্ষা অনুসরণের বদলে তারা যেন আরও সুযোগসন্ধানী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বাস্তবতায় রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সবচেয়ে কষ্টে আছে দরিদ্র মানুষ। গরিব-দুঃখীদের বিপদে সহায়তা করা রমজানের শিক্ষা। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও দায়িত্ব রয়েছে গরিবদের পাশে এসে দাঁড়ানোর।

এ পবিত্র মাসে দেশের সব মুসলমান ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ত্যাগ ও কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Share This Post