Spread the love

সম্প্রতি ভারতের ‘দেব’ নামক একজন অভিনেতার একটি ছবির টিজার প্রকাশিত হয়েছে। যার নাম ‘কমান্ডো’। দেলোয়ার হোসেন দিল নামের এক নাট্যকারের চিত্রনাট্যে কমান্ডো সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের একজন পরিচালক। আর এটি প্রকাশ করেছে শাপলা মিডিয়ার মো. সেলিম নামের এক লোক।

তবে ছবিটির টিজার প্রকাশ হওয়ার পরেই সমালোচনার ঝড় বইছে। এটাকে ইসলামবিরোধী সিনেমা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসলামকে ঘায়েল করতেই পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে সিনেমাটি। এটি বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মানুরাগী মুসলিমরা।

ছবিটিতে দেখা গেছে, কালেমা খচিত পতাকা, পতাকার নিচের অংশে AK-47 এর সিম্বল। পতাকার পেছন থেকে অস্ত্র হাতে বেরিয়ে আসছে কথিত সন্ত্রাসীরা। যারা সুন্নাতি পোশাক পরে ‘নারায়ে তাকবির’, ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বেশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে দর্শকদের মধ্যে। ২০১৮ সালে নির্মিত মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর ‘হলি আর্টিজান’ সিনেমার মতো এটিও বন্ধ করার দাবি উঠেছে। দেশের ইসলামপ্রিয় তাওহিদি জনতার দাবি, দেশের সম্প্রীতি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে সিনেমা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দেশের বিখ্যাত তিন ইসলামিক স্কলার ছবিটির ছাড়পত্র না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নিজেদের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আওয়ার ইসলামের পাঠকদের জন্য তাদের স্ট্যাটাসের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো-

মাওলানা উবায়দুর রহমান নদভী এক স্ট্যাটাসে ছবিটির নিন্দা জানিয়ে সরকারের কাছে অনুরোধ করে বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কাছে বিনীত অনুরোধ ও আবেদন, এ উদ্দেশ্যমূলক মুভিটির ছাড়পত্র দেবেন না। এর আগে মোস্তফা সারয়ার ফারুকীর ‘হলি আর্টিজান’ যেমন আটকে দিয়েছেন, এবারের ‘কমান্ডো’ ছবিটিও আটকে দিন। না হয় বাংলাদেশের সম্মিলিত দেশপ্রেমিক শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর ধার্মিক পেট্রিয়টিক আদর্শের অনুসারীরা এসব কুকীর্তি প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ।’ নদভী বলেন, ‘বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে হলেও বাংলাদেশে এই সিনেমা বন্ধ করতে হবে।’

ছবিটির কিছু চরিত্রের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছবিটিতে দেখানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ ভরে গেছে সশস্ত্র মৌলবাদী যোদ্ধায়। ইসলামি ঐতিহ্য, স্থাপত্য, সুন্নতি পোশাক, পাগড়ি, দাড়ি, টুপি পরিহিত এসব অভিনেতা দেশে সন্ত্রাস করছে। আর ভালো মানুষেরা ইন্ডিয়া থেকে এসে বাংলাদেশ রক্ষা করছে। ৯০ ভাগ মুসলমানকে সন্ত্রাসী দেখিয়ে, তাদের নবীর সুন্নত, ধর্মীয় নিদর্শন, প্রতীক ও নেতৃবৃন্দের অবমাননা করে বাংলাদেশকে রক্ষা করছে। যা নিতান্তই বাংলাদেশের প্রতি এক বিষোদগার।’

এই কাজের তীব্র সমালোচনা করে ছবিটিকে ‘শোবিজ অঙ্গনে ভারতের বোমা’ উল্লেখ করে নিজের সম্পাদিত পোর্টালে মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ লিখেন, ‘কমান্ডো’: শোবিজে ভারতের গোয়েন্দা বোমা!’

তিনি বলেন, ভারতে সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় মাঠে-ময়দানে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের খবর ছড়ায় মিডিয়ায়। বাস্তব ময়দানে তেমন কিছু না ঘটলেও মিডিয়ার ময়দান জুড়ে এদেশে ইসলাম ও মুসলমানকে ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

উদাহরণস্বরুপ তিনি বলেন, ‘বিজেপির উত্থানকালে তসলিমা নাসরিনকে দিয়ে ‘লজ্জা’র মতো উপন্যাস লেখানো হয়েছিল। ভারতে যখন মুসলমানদের কচুকাটা করা হচ্ছিল তখন এই বইয়ে তসলিমা দেখিয়েছে বাংলাদেশে হিন্দুদেরকে ব্যাপক নির্যাতন করা হচ্ছে। বিজেপি ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার উপহার-উপঢৌকন এ কাজের পেছনে ছিল বলে অনেক তথ্য পরে সামনে এসেছে।’

অপরদিকে দেশের ‘ভিন্নরকম’ খতিব উপাধি পাওয়া মাওলানা আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ কমান্ডো সিনেমাকে ইসলামবিরোধী বলে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশি পরিচালক এর ‘কমান্ডো’ সিনেমার টিজার মুক্তি পেয়েছে। দুনিয়াব্যাপী ইসলাম নিয়ে যে বহু পর্যায়ের ষড়যন্ত্র চলছে এই সিনেমা তারই অংশ বলে মনে হচ্ছে। ইসলাম আর মুসলমানদের নানান কৌশলে এতদিন দাড়ি, টুপি, জুব্বা, রুমাল, সুরমাকে রাজাকার, বদমায়েশ, চরিত্রহীনদের পোশাক বানিয়ে অপমান করেছে ভারত ও এদেশের মুভি মেকাররা। এবার যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে তারা!

তিনি লিখেন, ‘মনে রাখবেন ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃত মুসলিম জঙ্গিতো দূরের কথা ত্রাশের পক্ষেও থাকতে পারে না। কিন্তু কালেমার পতাকাকে জঙ্গির ট্যাগ লাগিয়ে কারো হাতে ঈমানদাররা তুলেও দিতে পারে না।’

তিনি আরও লিখেন, রিসেন্ট ঘটে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে ক্রুশবিদ্ধকরণ মুভি বানিয়ে, খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে দায়ী করে, দেব ও শোয়ার্জনেগারকে নায়ক বানান তো দেখি পারলে! আরেকটা বানান লাখ লাখ মুসলিমকে রাখাইন ও পার্শ্ববর্তী দেশের উগ্রবাদীদের দ্বারা হত্যা যুদ্ধাপরাধ ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া নিয়ে। সেগুলি এত নিকটে ঘটলেও চোখে পড়লো না কেনো? ভণ্ডামি সব ইসলাম আর সুন্নাতি পোষাক নিয়ে তাই না?’

তিনি অনুরোধ করে বলেন, ‘ইচ্ছাকৃত এসব শয়তানি কারবার দ্রুত বন্ধ করুন। নচেৎ এ নিয়ে শান্তির পরিবেশ নষ্ট হলে সিনেমা কর্তৃপক্ষ দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।’

 

Share This Post