Spread the love

চাঁদপুরের কচুয়ায় সাতবাড়িয়া তা’লীমুল কোরআন মাদরাসা ভাঙচুর ও বলাৎকারের মিথ্যা অভিযোগে হেফজখানার শিক্ষর‌্য জড়িত ছিল দুজন হিন্দুুও। এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য দিয়েছেন মাদরাসাটির মুহতামিম মাওলানা হোসাইন আহমেদ।

স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘মাদরাসায় আক্রমণের মূল হোতা অভিযোগকারী ছাত্র আবু বকরের চাচা আমিনুল ইসলাম শিপন। ছাত্রটির বাবা তৌহিদুল ইসলাম স্থানীয় বাজারে টিভিসি শোরোমের ম্যানেজার। তারা ৫০/৬০ জন গুন্ডা নিয়ে এসে কোনো তদন্ত ছাড়াই শিক্ষককে নির‌্যাতন করে। মাথার চুল কামিয়ে দেয়। এতে গুন্ডাদের মধ্যে দুজন হিন্দুও ছিল।’ তবে হিন্দু দুজনের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

মাদরাসাটির মুহতামিম মাওলানা হোসাইন আহমেদ
মাওলানা হোসাইন আহমেদ আরও বলেন, ‘তারা শুধু শিক্ষক নির্যাতন করেনি, সিসি ক্যামেরা ভেঙেছে, ক্যামেরার ক্যাবল ছিন্ন করেছে। তারা অফিস রুমের ডেস্ক ভেঙে টাকা লুট করেছে। ডেস্কে আশি হাজারের অধিক টাকা ছিল। এছাড়াও একজন শিক্ষকের মোবাইল এবং আরেকজন শিক্ষক থেকে পাঁচ হাজার টাকও লুট করেছে।’

সূত্র মারফত জানা গেছে, মাদরাসার থাই জানালাগুলো ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এমনকি ভেঙে ফেলেছে মাদরাসার বাইরের সাইনবোর্ডও।

ভিডিও বার্তায় মুহতামিম আরও বলেন, ‘আলোচিত ছাত্র আবু বকর গত ফেব্রুয়ারিতে আমাদের মাদরাসায় ভর্তি হয়। শুরু থেকেই সে উশৃঙ্খল; মাদরাসার নিয়মকানুন উপেক্ষা করে এখানে সেখানে চলে যায়। গত এক মাস আগে সে রাতের বেলা কাউকে না বলে বাইরে চলে যায়। ফিরে এলে শিক্ষক ওমর ফারুক তাকে শাসন করে। আবু বকর বাজারে গিয়ে তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। তখন একদল লোক নিয়ে তার চাচা শিপন মাদরাসায় আসে। তখন আমি তাদেরকে বুঝিয়ে শান্ত করি। পরিশেষে ২৮ ডিসেম্বর আসরের পূর্ব মুহূর্তে আবু বকর পড়ালেখা না করে দুষ্টুমি করছিলো । তখন শিক্ষক ওমর ফারুক তাকে আবার হালকা শাসন করেন।

আসরের পর আবু বকর বাজারে গিয়ে তার বাবাকে-চাচাকে বলে, তার শিক্ষক তাকে বাথরুমে নিয়ে বলাৎকার করেছে বেলা এগারোটায়। তখন ৫০-৬০ জন গুন্ডা বাহিনী নিয়ে তার চাচা মাদরাসায় এসে এসব তান্ডব চালায়। খবর পেয়ে কচুয়া থানার এসআই মকবুল হোসেন ফোর্স নিয়ে ওই দিন রাতেই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং বুধবার অভিযুক্ত ওমর ফারুককে জেলহাজতে প্রেরণ করে। আমরা ডিবি পুলিশের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ জমা দিয়েছি। তারা ফুটেজ দেখেছেন। কিন্তু তেমন কোনো ঘটনা পুলিশের চোখে পড়েনি। আবু বকর যে সময়ের কথা বলছে, সিসিটিভিতে দেখা গেছে, তারা দুজন তখন স্ব স্ব বিছানায় ছিলো। আমরা শুধু ওই সময়ের নয়, পুরো তিনদিনের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে দিয়েছি।’

মাওলানা হোসাইন আহমেদ বলেন, ‘মাদরাসায় আটটি সিসি ক্যামেরা আছে। ছাত্রদের রুমে, শিক্ষকের মাথার ওপর, বাথরুমের সামনে, যাবার রাস্তায়। সুতরাং সেসব তদন্ত না করে এমন আক্রমণ আসলে দৃর্বৃত্তায়ন। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি এর সুষ্ঠু বিচারের।

উল্লেখ্য, শিক্ষক নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর গতকাল রাতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থীর বাবা। ভুক্তভোগী শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলার পেছনে সেই শিক্ষার্থীর চাচার ষড়যন্ত্র ছিল বলে জানিয়েছেন তার বাবা।

তবে বোদ্ধা মহল বলছেন, ‘যারা অপরাধী, যারা লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের বিচারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

Share This Post