Spread the love

ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠেছিল দেব অভিনীত বাংলাদেশি সিনেমা ‘কমান্ডো’ নিয়ে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে সংবাদমাধ্যমে কথাও বলেছেন সিনেমাটির প্রযোজক সেলিম খান। তার দাবি, সিনেমায় ইসলাম অবমাননা করা হয়নি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হয়েছে।

তারপরও সমালোচনা থামেনি। বাধ্য হয়ে অন্তর্জাল থেকে সিনেমার টিজার সরিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারপর আলোচনা কিছুটা থেমেছিল। এবার সে আলোচনায় ঘি ঢাললেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। ‘ফেস দ্য পিপল উইথ সাইফুর সাগর’ নামে একটি টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘কমান্ডো’ সিনেমার টিজারে ইসলামকে হেয় করা হয়েছে। ইসলামী চেতনা ও ঈমানকে আক্রমণ করা হয়েছে। 

মামুনুল হকের ভাষায়, ‘ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা আপত্তির জায়গাগুলোর সবটা রাজনৈতিকভাবে উত্থাপন করি না। ধর্মীয় দায়িত্বের ৮০ বা ৯০ ভাগ আমরা নসিহতের মাধ্যমে, মানুষকে উপদেশের মাধ্যমে পালন করে থাকি। চলচ্চিত্রসহ যাবতীয় বিষয় সে জায়গাটাতে পড়ে। কিন্তু দেব অভিনীত ছবির ট্রেলার ততটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যে ট্রেলারটা প্রচারিত হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে কালেমা খচিত পতাকা, সেই পতাকাটাকে সন্ত্রাসবাদের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ ইসলামী লেবাস পরিহিত, সুন্নত সম্মত যে লেবাস-পোশাক, যে অবয়ব, বেশভূষা- সেটাকে সংবলিত করে সেখানে সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদী কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আর সেই চিত্রের বিরুদ্ধে কলকাতার একজন অভিনেতাকে অ্যাকশন নিয়ে এবং সেই কালেমার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে সেটাকে ধ্বংস করার একটা পাঁয়তারা বা ভূমিকা আমরা লক্ষ করছি।’

রোববার (০৩ জানুয়ারি) অন্তর্জালে প্রকাশ হয়েছে মামুনুল হকের টকশোর কিছু অংশ। ১২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, ‘এটা কিভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’- যেটা মুসলমানদের চেতনার বিষয়, মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় এবং সারা দুনিয়ার মুসলমানদের সবচেয়ে আবেগের বিষয়, সবচেয়ে বড় সংবেদনশীলতার যে জায়গাটা, সেটাকে কেউ যদি জঙ্গিবাদী প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়? তাহলে তার চেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক আর কী হতে পারে! আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে এই বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক শুধু নয়, বরং চরমভাবে সাম্প্রদায়িক এবং উসকানিমূলক একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি। আমরা মনে করছি এর মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ইসলামী চেতনা, ঈমান, আত্মমর্যাদায় আক্রমণ করা হয়েছে।’

এর আগে মাওলানা আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ‘কমান্ডো’র টিজার নিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। মূলত তারপর থেকেই আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে ‘কমান্ডো’। 

Share This Post