Spread the love

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত দেশে কুরআনের শাসন কায়েম না হবে, কুরআনী বিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে না। এবং সম্ভবও নয়।

সোমবার (৯ নভেম্বর) হাটহাজারী মাদরাসার দারুল হাদীসে বোখারী শরীফের দরস দানকালে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কমতি নাই। অহরহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জন্ম হয়েছে। কিন্তু, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যত বাড়ছে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাও তত বেশি বিনষ্ট এবং বিঘ্নিত হচ্ছে। অরাজকতা এবং অনৈতিকতাও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারন, জনগণের মতো তারাও বিভিন্ন অপরাধ-অপকর্ম এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সমানতালে জড়িত। এবং অধিকাংশ অপরাধীরাই থাকে বিচার এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই কুরআনের শাসন ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

বহুল আলোচিত নোয়াখালীর সেই ধর্ষণের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, নোয়াখালীর সেই ধর্ষণের ঘটনা ছিলো বর্বরতার নিকৃষ্ঠতম উদাহরণ। এই ঘটনা জাহিলী যুগকেও হার মানিয়েছে।
গোটা দেশবাসী এই বর্বর এবং নিষ্ঠুরতম ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে। আন্দোলন এবং মিছিল-মিটিংও করেছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো ফায়দা হয়নি। উচিৎ ছিল এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারকার্য দ্রুত সম্পন্ন করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। কিন্তু বিচার তো হয়নি-ই, উপরন্তু নিরাপত্তারর সাথে রাজকীয় হালতে অপরাধীদেরকে জেলখানায় রাখা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আজকাল জেলখানাই যেন অপরাধীদের নিরাপত্তা এবং শান্তিতে বসবাস করার সুন্দর এবং উপযুক্ত স্থান।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, দেশে যদি শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, প্রকৃত সুশাসন কায়েম করতে হয়, অরাজকতা-দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতি, জেনা-ব্যভিচার এবং গুম-খুন-ধর্ষন থেকে দেশকে বাঁচাতে হয়, তাহলে কুরআনী আইন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। মানবরচিত আইনের মাধ্যমে দেশে কখনোই শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
এরজন্য প্রয়োজন কোরআনী আইন বাস্তবায়ন। তবেই দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

Share This Post