Spread the love

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাতের বক্তৃতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে বরখাস্ত করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

পুলিশ সুপারের সাম্প্রতিক এক বক্তৃতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজতের এই নেতা বলেন ‘কুষ্টিয়ার এসপির তথাকথিত মৌলবাদের ধোঁয়া তুলে ‌হাত ভেঙে দেওয়ার হুমকি সরকারি পোশাকে গণবিরোধী মাস্তানি।’ তিনি বলেন, ভাস্কর্য ভাঙার মতো স্যাবোটাজ ঘটিয়ে আলেম-ওলামার ওপর দায় চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা চলছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী বা জনগণের সেবক। জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা নিয়োজিত। বিচার করা বা শাস্তি দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব নয়। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ ঠেকানো এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ায় পাঠানো।

কিন্তু পুলিশ কোনো অপরাধীর হাত ভেঙে দিতে পারে না, কিংবা কোনো অপরাধীকে বিনা বিচারে জেল খাটাতেও পারে না। সরকারের কাছে আমরা অবিলম্বে ওই এসপিকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানাই।’

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ায় ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে গত সপ্তাহে আয়োজিত এক সমাবেশে সেখানকার পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত বলেন, “আমি সত্যি দুঃখিত, লজ্জিত, আবেগাপ্লুত, রাগান্বিত। আমি এখানকার পুলিশ সুপার। খুবই লজ্জিত যে আমাদের এখানে দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি জাতির পিতার ভাস্কর্য আরেকটি বাঘা যতীনের আবক্ষ।”

ভাস্কর্য ভাংচৃরকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। জাতির পিতার ভাস্কর্য আপনারা ভাঙেন, আপনাদের স্পর্ধা কত বড়! যাদের ধরা হয়েছে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কঠোরভাবে বলতে চাই, পরবর্তীতে এমন কোনো ঘটনা যদি ঘটে, সরকারকে একদম দুর্বল মনে করবেন না মৌলবাদী চক্র। হাত কিন্তু ভেঙে দিব।

বাংলাদেশ যদি পছন্দ না হয়, তাহলে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তানভীর আরাফাত বলেছিলেন, “কোরআন আমরাও পড়েছি। কোরআন শরীফ চারবার খতম দিয়েছি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আমিও পড়ি। আপনি বলার কে আমি বেহেস্ত যাব, কি যাব না? বেহেস্তে যাওয়ার টিকেট কি আপনি আমারে দিবেন?”

Share This Post