ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বসে সাতক্ষীরা উপকূলের শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ ও দেবহাটার ২২ পয়েন্টে উপকূল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ও পানি উপচে পড়ে ৪ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। দুর্দশায় মানুষ।

গতকাল শুক্রবার (২৮ মে) আশাশুনির প্রতাপনগরের বিভিন্ন মসজিদে কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে জুমার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

চারিদিকে শুধুই কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর লবণাক্ত বিষাক্ত লোনাপানির স্রোতধারা। প্রতিটি মানুষের ঘর দুয়ারে পানি আর পানি।বাদ পড়িনি ধর্মীয় উপাসনালয়-মসজিদ, মন্দির; স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নেই পর্যাপ্ত নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র।
এ কারণে ২৮ মে শুক্রবার কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে প্রতাপনগর ৫ নম্বর ওয়ার্ড হালদার বাড়ি জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
স্থানীয় মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘অস্বাভাবিক পানির তোড়ে ভেসে গেছে মৎস্য ঘের।

বিগত বছরের আম্পানের ক্ষত না কাটতেই ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট স্রোতে এ অঞ্চলের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দুর্বিষহ যন্ত্রণার কথা বলতে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে তারা। খাবার, রান্না, প্রাকৃতিক কাজ সবকিছুতেই পানি সংকট।

সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন উপকূলীয় অঞ্চলের প্লাবিত মানুষ।
তিনি বলেন, ‘আমদের ঘরের মধ্যে কোমর পানি, মসজিদেও কোমর পানি। তাই মসজিদে নামাজ আদায় করতে এসেছি।

আগে তাও পানি এলে ভাটায় সরে যেত এবার তা যাচ্ছে না। কী করে যে আমরা বসবাস করবো জানি না।’ এ সময় টেকসই বেড়িবাঁধের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

Share This Post