Spread the love

জন্মের পরপরই রুখে দেয়া সম্ভব শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা। এর মাধ্যমে সমাজে কমানো সম্ভব প্রতিবন্ধী বা বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যাও। পরমাণু প্রযুক্তির সাহায্যে এই চিকিৎসায় সফলতা পেয়েছে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস। তাদের মতে, দেশব্যাপী এই কর্মসূচি জাতীয়ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে, অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব অটিজমের মতো অনিরাময়যোগ্য অস্বাভাবিকতা।

বিশ্বে প্রতি ৪ হাজার শিশুর মধ্যে একটি আক্রান্ত হয় থাইরয়েড হরমোনজনিত জটিলতায়। যে হরমোনের প্রভাবেই মূলত প্রতিবন্ধী শিশুতে পরিণত হয় আদরের নবজাতক। আশঙ্কাজনক হারে বাংলাদেশে প্রতি ২ হাজার ২০০ শিশুর মধ্যে একটি শিশু প্রতিবন্ধী হয়েই জন্ম নিচ্ছে।

থাইরয়েড হরমোনের জটিলতা নিয়ে জন্ম নেয়া এসব শিশুদের এই রোগকে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম। বিএসএমএমইউর নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউটের গবেষকরা এই জটিলতা নিরসনে শিশুর জন্মের পরপরই রক্তের নমুনা নিয়ে তা চার সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা করেই জানাতে পারছেন, শিশু প্রতিবন্ধী নাকি সুস্থ।

অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার বলেন, এক মাস বয়সের মধ্যেই চিকিৎসা দেয়া যায় তবে সে সাধারণভাবেই বেড়ে উঠবে।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিএসএমএমইউর এই ল্যাবেই পরীক্ষা করা হচ্ছে শিশুর প্রতিবন্ধিতা। কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ে কাজ করা গবেষকরা বলছেন, জাতীয়ভাবে এই কর্মসূচি পালন করা গেলে কমানো সম্ভব প্রতিবন্ধিতার হার।

ডা. মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লাড নিয়ে পরীক্ষা করে দেখি, বাচ্চা সুস্থ আছে কিনা।

আরও পড়ুনঃ ‘জোনভিত্তিক লকডাউনে কোনো ফল আসেনি’

ডা. আনোয়ারুল হক আজিম বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি আমাদের সাপোর্ট দেয়, স্যাম্পল কালেকশনের যে নেটওয়ার্ক তাহলে আমরা আরও ভালোভাবে করতে পারব।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে এই সেবা সরকারিভাবে দেয়ার কথা জানিয়ে তদারককারী সংস্থার প্রধান বলছেন, সেবা সম্প্রসারণে আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।

বহির্বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও শিশু জন্মের পরপরই রক্তের নমুনায় হরমোন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করারও তাগিদ দিচ্ছেন গবেষকরা।

Share This Post