এ’দে’শে’র শিক্ষাক্ষেত্রে এক অনন্য নাম ঢাকা কলেজ। ১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত
এই কলেজটি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম উচ্চ শিক্ষার প্র’তি’ষ্ঠা’ন। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রায়

পৌনে দুইশত বছরের ইতিহাসের সা’ক্ষী এই কলেজ জন্ম দি’য়ে’ছে অনেক সূর্য সন্তান।
বিভিন্ন সময়ে এই কলেজের নেতৃত্ব দিয়েছে অনেক কিংবদন্তী। দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৪৪ সালের ১ জুলাই গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার অ’জ’পা’ড়া জন্ম নেয়া নূরুল হক
শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের

কে’মি’স্ট্রি ডিপার্টমেন্টে। সেশন ১৯৬৬-৬৭। থাকতেন ফজলুল হক মুসলিম হলের ৩৫৯ নম্বর
রুমে। নি’ভৃ’ত’চাঃরী এই জ্ঞানতাপস সারা জীবন সহজ সরল জীবন যাপন করেছেন। যতদিন

প্রিন্সিপাল হিসেবে দা’য়ি’ত্ব পালন করেছেন, প্রিন্সিপালের সুবিধাগুলো নেননি। সরকারি গাড়ি,
সরকারি বাংলো কোনো কিছুই নেননি। এ’ম’ন’কি মোবাইল ফোনও না। লালবাগের বাসা থেকে

পায়ে হেটেই অধিকাংশ সময় কলেজে আসতেন। যখন প্রিন্সিপাল ছি’লে’ন তখনো একই নিয়ম
ছিল। জীবনের প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহপাক আমাকে দু’নি’য়া’তে

অনেক সম্মান দিয়েছেন, ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপালের চেয়ারে যেদিন প্রথম বসি, তখন সবাই
বলেছিল, ঢাকা ক’লে’জে’র দেড়শত বছরের ইতিহাসে এই প্রথম দাড়ি টুপিওয়ালা কেউ প্রিন্সিপালের

চেয়ারে বসলো। আমার সৌ’ভা’গ্য সেই সুযোগ আমার হয়েছিল। আমার বই আমাকে যে সম্মান
এনে দিয়েছিল তা ভু’লা’র মতো না। তিনি বলেন, তাবলিগের জামাতে আমি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

যেতাম। মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখতাম, আ’শ’পা’শের কলেজ থেকে ছেলে-মেয়েরা আমাকে
দেখার জন্য ভিড় করছে। লাইন ধ’রতো সবাই আমার অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য। আ’মা’কে ক্লাস

করানোর জন্য অনুরোধ করতো, কলেজে নিয়ে যেত। তার ছোট ছেলে এহসানুল হক বলেন,
প’রি’বা’রে’র সবচেয়ে ছোট সন্তান হওয়ায় আব্বার সোনালী সময় আমার তেমন দেখার সুযোগ

হয়নি। কিন্তু বাবার ক্রে’স্ট’গু’লো যখন দেখি ভালো লাগে। ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপালের মাথার
ওপর টা’ঙানো তালিকায় আমার বাবার না’ম’টি যেদিন প্রথম দেখেছিলাম, কেমন আনন্দ লেগেছিল

তা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো না। আমার বড় ভাইয়ের মেয়ে দী’র্ঘ’দি’ন পিজি হাসপাতালে ভর্তি ছিল।
কোনভাবে ডাক্তাররা পরিচয় জানলেন, তখন দেখা গেল উ’প’স্থি’ত সব ডাক্তারই বাবার ছাত্র। সবাই

বাবার বই পড়েছেন। এমন অনেক সময়ই হয়। এহসানুল হক বলেন, বাবাকে একদিন জি’জ্ঞে’স
করেছিলাম, আপনি ঢাকা কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন, ভা’র’মু’ক্ত

হলেন না কেন? তিনি বলেছিলেন, দরকার কী? সে জন্য তদবির করতে হত। আমি তো সেগুলো
ক’র’বো না। অথচ তিনি একটু চাইলেই পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।আব্বা বলতেন, প্রিন্সিপাল

হয়ে একটা সমস্যা ছিল। অনেক স’ম’য় মি’টিং করতে হতো নামাজের সময়ে। বিরতি দেয়া যেত না।
যেভাবে দীর্ঘদিন চলে আসছে, আমার পক্ষে সেটা প’রি’ব’র্তঃন করাও সম্ভব ছিল না। নামাজ

পা’গল বাবা কোনদিন ছাত্র পড়াতে পারেননি। কারণ আজান হলেই সবাইকে ব’সি’য়ে রেখে আব্বা
চলে যেতেন মসজিদে। বাবা বন্ধু রহমান আলীর ছেলে ঢাকা কলেজের বিখ্যাত ছাত্র বর্তমান

পৃ’থি’বী’ব্যা’পী আলোড়ন সৃষ্টি করা মার্কিন বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের
অধ্যাপক এম. জা’হি’দ হাসান তাপস আমাদের বাসায় নিয়মিত পড়তে আসতেন। এই খবর

কলেজে ছড়িয়ে পড়লে আরও অ’নে’ক ছাত্র এসে ভিড় করতো। কিন্তু এই সমস্যায় ছাত্র টিকতো
না। আব্বা সবাইকে বসিয়ে রেখে মসজিদে চলে যেতেন। শুধু ম’স’জি’দে যেতেন তাই না,

তাবলিগের আমল শেষ করে বাসায় ফিরতেন। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ার আগ প’র্য’ন্ত
ক’খ’নো’ই জামাত ত্যা’গ করতেন না। তিনি দুই ছেলে ও ছয় কন্যার জনক। সবাইকেই

তিনি কোরআনে হাফেজ বা’নি’য়ে’ছে’ন। দুই ছেলেই মাওলানা। দুইজনই দেশে প্রথম সারির
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শি’ক্ষ’ক। ঢাকা কলেজ প্রিন্সিপালের আট সন্তানই

হাফেজ, ভাবা যায়! তিনি বলেন, কলেজ জীবনে আমার স%হ’ক’র্মী’রা বলতো, স্যার, সবাইকে
মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন, ওরা খাবে কী? আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করেছিলাম। এ’ক’ই’স’ঙ্গে
সন্তানদের কথা চিন্তা করে একটি ইসলামি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আল্লাহপাক সন্তানদের

খা’রাপ রা’খে’ন’নি। তিনি আরও বলেন, আমি সন্তানদের জন্য পিএইচডি পর্যন্ত করিনি।
আমেরিকায় পিএইচডি করার এ’ক’টা সুযোগ আমার এসেছিল, কিন্তু আমি ভাবলাম আ’মে’রি’কা’য়’
পরিবার নিয়ে গেলেও সমস্যা; না নিলেও সমস্যা। নিলে সমস্যা হলো, সেখানকার পরিবেশে

ম’ন’মা’ন’সি’কতা ব’দলে যেতে পারে, আর না নিলেও সমস্যা হলো দেশে তারা বাবার নেগরানি
থেকে বঞ্চিত হবে। শুধু এ জ’ন্য’ই আমার পিএইচডি করা হয়নি। আমার সঙ্গের অনেকেই
আমেরিকায় গিয়ে পিএইচডি করেছে। বর্তমান শা’রী’রি’ক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে,

প্রফেসর মো. নূরুল হক মিয়ার ছেলে বলেন, বাবার হাইপ্রেসার অ’নে’ক আগে থেকেই ছিল। ডাইবেটিস
থাকলেও সেটা কম। স’ব’চে’য়ে বড় সমস্যা হলো, গত কয়েক বছর যাবত বাবার পা’রকি’নসন।

আস্তে আস্তে চলাচল শ’ক্তি এ’কে’বা’রে’ই কমে আসছে। অন্যের সাহায্য ছা’ড়া এখন চলতেই
পারেন না। তবে মেধাটা এখনো পরিপূর্ণ সতেজ আছে।

Share This Post