Spread the love

বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের ব্যবহৃত অধিকাংশ মিডিয়া অ্যাপ ইহুদি ও মুসলিম বিদ্বেষীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।  বরাবরই মুসলমানদের জন্য যা বড় ধরণের ঝুঁকি। এক্ষেত্রে মুসলমানদের আশার আলো জাগিয়ে এগিয়ে এসেছে তুরস্ক। গড়ে তুলেছে নিজস্ব যোগাযোগ এ্যাপ : bip App।

যখন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ তার ব্যবহারকারীদের জন্য  নতুন প্রাইভেসি পলিসি  চালু করেছে, তখন থেকে তুরস্কসহ মুসলিম বিশ্বে ব্যবহারকারীগণ একে ত্যাগ করে তুরস্কের স্থানীয় বার্তাপ্রেরণের অ্যাপগুলি ব্যবহার শুরু করেছেন। দেশটির স্থানীয় অ্যাপ্লিকেশনগুলি দিনদিন অবাক করে দেওয়ার মতো জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

তুর্কী মোবাইল ফোন এবং ডেটা সংস্থা তুর্কি সেল সম্প্রতি একটি অ্যাপ্লিকেশন বিআইপি চালু করেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তুর্কসেলের অ্যাপ বিআইপির গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ২০ হাজার। তুরস্কের এই অ্যাপটি বিশ্বব্যাপী ৫ কোটি ৩০ লাখ গ্রাহক তৈরি করতে চায় বলে জানানো হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন,  এই App মুসলমানদের তথ্য গোপন রাখবে।  এদিকে আজ বুধবার এরদোগান নিজে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই অ্যাপটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিআইপি অ্যাপটি এইচডি মানের অডিও এবং ভিডিও আদান-প্রদানকে সহজতর করে। যে কারণে ১৯২ টি দেশে ছড়িয়ে থাকা তুর্কি সেল গ্রাহকদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বিস্ময়কর।

নতুন এ তুর্কি অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার ওপর জোর দেয়। যার আওতায় বার্তার দর্শক নিজে তার বার্তার সময়কাল নির্ধারণও করতে পারে। যার অধীনে বার্তা প্রাপকের দেখার একটি নির্দিষ্ট সময় পরে সেটি ডিলিট হয়ে যায়। অ্যাপটির এই ঐচ্ছিক দিকটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তুর্কি অ্যাপটির আরেকটি  উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হ’ল এটির ইমারজেন্সি অপশন। যা ব্যবহারকারীকে তাত্ক্ষণিকভাবে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং আরও দশটি পরিষেবার সুযোগ করে দিতে সক্ষম।অ্যাপটিতে বার্তা আদান-প্রদানের সময় ১০৬ টি ভাষায় অনুবাদ সুবিধাও রয়েছে।

কিছুদিন আগে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রজব তাইয়েব এরদোগান একটি বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে ডিজিটাল কলোনি-ইজম বা উপনিবেশবাদের অনুমতি দেওয়া হবে না।’ ডিজিটাল বিশ্বে ক্রমবর্ধমান একচেটিয়া ইজারাদারির বিরুদ্ধে এ তুর্কি অ্যাপটিকে দেখা হচ্ছে।

হোয়াটসঅ্যাপের নতুন গোপনীয়তা নীতি ঘোষণার পর মার্কিন অ্যাপ্লিকেশন সিগন্যাল সহ আরও এমন অনেক অ্যাপ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যা “আপনার গোপনীয়তা রক্ষা করুন” স্লোগান দিয়ে ২০১৪ সালে চালু হয়েছিল।

একইভাবে, রাশিয়ান প্রোগ্রামারদের দ্বারা নির্মিত টেলিগ্রাম নামে একটি অ্যাপ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপের ক্রমহ্রাসমান ব্যবহারের পরে এটি ইউরোপীয় ব্যবহারকারীদের তাদের ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করার সুযোগ দিয়েছে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা সরবরাহ করেনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের সূত্রে জানা গেছে, হালে হোয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তায় টান পড়েছে তাদের নীতিগত বদলের কারণে। ৭ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের তরফে কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়। বলা হয়, এই নীতির সঙ্গে একমত না হলে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আর হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করবে না ওই ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে।

হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে ব্যবহারকারীদের চটে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ব্যবহারকারীর থেকে একাধিক ব্যাক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়া। ফোন নম্বর, লোকেশন থেকে শুরু করে অনলাইনে কেনাকাটা, টাকাপয়সা সংক্রান্ত তথ্য পর্যন্ত জানার অধিকার চেয়ে নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। শুধু তাই নয়, কোনও ব্যবহারকারী যদি ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মুছে দেন, তারপরেও এই মেসেজিং অ্যাপের সার্ভারে ব্যবহারকারীর সেই সব তথ্য থেকে যাবে বলেও জানিয়েছে এই অ্যাপটি।

আনন্দবাজার আরো জানায়, সোমবার হোয়াটস্যাপ নিয়ে অন্য একটি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপ গুগল সার্চে হঠাৎই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল। এবং যে কেউ ইচ্ছে করলেই সেই সব গ্রুপে ঢুকে সেখানকার তথ্য জানতে পারছিলেন আর গ্রুপে থাকা সদস্যদের ফোন নম্বর পেয়ে যাচ্ছিলেন। যদিও সোমবার এই সমস্যার সমাধান করে ফেলেছে ফেসবুকের মালিকানাধীন মেসেজিং অ্যাপটি। কিন্তু তত ক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়েছে নানা মহলে। অবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বহু স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই।

Share This Post