Spread the love

নামাজের মধ্যে ইমাম বা মুসল্লির অজু ভেঙ্গে গেলে করনীয় কী?

সালাতের মধ্যে যে ব্যক্তির হাদাছ ঘটে যায়, সে ফিরে যাবে। যদি সে ইমাম হয় তাহলে (পিছনে দাড়ানো) একজনকে স্থলবর্তী করবে এবং উযূ করে ‘বিনা’ করবে। কিয়াসের দাবী এই যে, নতুনভাবে সালাত শুরু করবে। এটাই হল ইমাম শাফিঈ (র.) এর মত। কেননা হাদাছ সালাতের বিপরীত। আর কিবলা থেকে ফিরে যাওয়া এবং হাটা-চলা করা সালাতকে ফাসিদ করে দেয়। সুতরাং তা ইচ্ছাকৃতভাবে হাদাছ ঘটানোর সদৃশ। আমাদের দলীল হলো রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর বাণী- সালাতে যে ব্যক্তির বমি হয় কিংবা নাক থেকে রক্তক্ষরণ হয় কিংবা মযী (তরল পদার্থ) বের হয়, সে যেন ফিরে যায় এবং উযূ করে আর নিজের (পূর্ব) সালাতের উপর ‘বিনা’ করে, যতক্ষণ না সে কথা বলে।

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) আরো বলেছেন- তোমাদের কেউ যখন সালাত শুরু করে, তারপর বমি বমি হয় কিংবা নাক থেকে রক্তক্ষরণ হয়, তখন সে যেন তার মুখে হাত রাখে এবং এমন কাউকে (ইমামতির জন্য) আগে বাড়িয়ে দেয়, যে কিছু সালাতের মাসবূক হয়নি। আর সাধারণ ওযর রূপে তাই গণ্য, যা অনিচ্ছায় ঘটে যায়। যা ইচ্ছাকৃত ঘটে, তা তার মধ্যে গণ্য নয়। সুতরাং একে তার সাথে যুক্ত করা যায় না। তবে নতুন করে পড়ে নেয়াই উত্তম। যাতে মতপার্থক্যের দ্বিধা থেকে বাচা যায়। কারো কারো মতে একাকী নতুন ভাবে পড়বে। আর ইমাম ও মুকতাদী হলে জামা’আতের ফযীলত সংরক্ষণ করার জন্য ‘বিনা্’ করবে। আর মুনফারিদ ইচ্ছা করলে নিজের (উযূর) স্থানেই সালাত পুরা করে নিবে। আবার ইচ্ছা করলে সালাতের স্থানে ফিরে আসবে। আর মুকতাদী অবশ্য নিজের স্থানে ফিরে আসবে। তবে যদি তার ইমাম (সালাত থেকে) ফারেগ হয়ে যায় কিংবা যদি উভয়ের মাঝে কোন আড়াল না থাকে (তাহলে ফিরে আসার প্রয়োজন নেই)।

যে ব্যক্তির মনে হলো যে, তার হাদাছ হয়েছে, এবং সে মসজিদ থেকে বের হয়ে পড়ল; পরে বুঝতে পারলো যে, তার হাদাছ হয়নি, সে নতুন ভাবে সালাত আদায় করবে। আর যদি মসজিদ থেকে বের না হয়ে থাকে, তাহলে অবশিষ্ট সালাত পড়ে নিবে। অবশ্য উভয় অবস্থাতেই কিয়াসের দাবী হলো নতুন করে আদায় করা। এটাই হল ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত। কেননা, বিনা ওযরে সালাত থেকে ফিরে যাওয়া হয়েছে। সূক্ষ কিয়াসের কারণ এই যে, সে সংশোধনের উদ্দেশ্যে ফিরে গিয়েছে। দেখুন না, যদি তার ধারণা বাস্তব হতো তাহলে তো অবশ্যই সে নিজের সালাতের উপর ‘বিনা’ করতো। সুতরাং সংশোধনের ইচ্ছাকে বাস্তব সংশোধনের সাথে যুক্ত করা হবে যতক্ষণ না বের হওয়ার কারণে স্থানের ভিন্নতা দেখা দেয়। আর যদি (ইমাম হওয়ার কারণে) সে কাউকে স্থলবর্তী করে থাকে তাহলে সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে। কেননা এখানে বিনা ওযরে আমলে কাছীর হয়েছে। আর এটি সে মাসআলার বিপরীত, যদি সে ধারণা করে যে, সে উযূ ছাড়া সালাত শুরু করেছে এবং ফিরে যায় তারপর বুঝতে পারে যে, স উযূ অবস্থায় আছে, তাহলে (মসজিদ থেকে) বের না হলেও তার সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে। কেননা, এই ফিরে আসাটা হলো সালাত পরিত্যাগের ভিত্তিতে। দেখুন না; যদি তার ধারণা বাস্তব হতো তাহলে তো অবশ্যই তার নতুন করে সালাত শুরু করতে হতো। এ-ই মূল কথা। আর খোলামাঠে কাতারগুলোর স্থানটুকু হলো মসজিদের হুকুমভূক্ত। যদি সম্মুখের দিকে যায় তাহলে সুতরাহ (বা লাঠি) হলো সীমানা। আর যদি সুতরাহ্ না থাকে তাহলে (সীমানা হলো) তার পিছনের কাতারসমূহের পরিমাণ। আর মুনফারিদ হলে চারদিকে তার সাজদার জায়গা পরিমাণ। আর (সালাতের মধ্যে) যদি পাগল হয়ে যায়, কিংবা ঘুম আসার পর ইহতিলাম হয়ে যায়, কিংবা অজ্ঞান হয়ে যায়, তাহলে নতুন করে সালাত শুরু করবে। কেননা, এরূপ ঘটনা ঘটে যাওয়া বিরল। সুতরাং যে সকল ঘটনা সম্পর্কে ‘নসজ’ রয়েছে, এগুলো তার অন্তর্ভূক্ত হবে না।

সেরূপ যদি অট্টহাসি করে। কেননা এটা ‘কথা’ বলার পর্যায়ের। আর কথা বলা সালাত ভঙ্গকারী। যদি ইমাম কিরাতে আটকে যাওয়ার কারণে অন্যকে আগে বাড়িয়ে দেয়, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে তাদের সালাত দুরস্ত হয়ে যাবে। আর ইমাম আবূ ইউসূফ, ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, তাদের সালাত দুরস্ত হবে না। কেননা, এ ধরণের ঘটনা বিরল। সুতরাং তা (সালাতরত অবস্থায়) জানাবাতের সদৃশ হলো। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হলো স্থলবর্তী করা হয় অক্ষমতার কারণে। আর তা এখানে অধিক প্রযোজ্য। আর কিরাতের অক্ষমতা বিরল নয়। সুতরাং জানাবাতের সাথে যুক্ত হবে না। আর যদি সালাত জাইয হওয়া পরিমাণ কিরাত পড়ে থাকে, তাহলে সর্ব সম্মতিক্রমে স্থলবর্তী বানান জাইয নয়। কেননা, এক্ষেত্রে স্থলবর্তী করার প্রয়োজন নেই। যদি তাশাহুদের পরে সে হাদাছগ্রস্ত হয়, তাহলে উযূ করবে এবং সালাম ফিরাবে। কেননা সালাম ফিরানো ওয়াজিব। সুতরাং তা আদায় করার জন্য উযূ করা জরুরী। আর যদি এ অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে ‘হাদাছ’ ঘটায় কিংবা কথা বলে কিংবা এমন কোন কাজ করে, যা সালাতের বিপরীত, তাহলে তার সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে। কেননা, সালাত ভঙ্গকারী বিদ্যমান হওয়ার কারণে ‘বিনা’ সম্ভব নয়। কিন্তু সালাত দোহরানো তার উপর জরুরী নয়। কেননা কোন রুকন তার যিম্মায় বাকি নেই। তায়াম্মুমকারী যদি সালাতের মধ্যে পানি দেখতে পায়, তাহলে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আগে এর আলোচনা হয়েছে। যদি তাশাহুদ পরিমাণ বসার পরে পানি দেখতে পায়, কিংবা সে মোজার উপর মাসহকারী থাকে, কিন্তু মাসহ করার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে কিংবা আমলে কালীল (অতিসামান্য কাজ) দ্বারা মোজা জোড়া খুলে ফেলে কিংবা উম্মী ছিলো কিন্তু সূরা শিখে ফেলে উলংগ ছিলো, কাপড় পেয়ে যায়, কিংবা ইশারাযোগে সালাত আদায়কারী ছিলো, কিন্তু রুকু সাজদা করতে সক্ষম হয়ে যায়, কিংবা এই সালাতের পূর্ববর্তী কোন কাযা সালাত তার স্মরণ হয় কিংবা কিরাত পাঠে সক্ষম ইমাম হাদাসগ্রস্ত হয়ে কোন উম্মীকে স্থলবর্তী করেন, কিংবা ফজরে সূর্যোদয় হয়ে যায়, কিংবা জুমুআর সালাতে থাকা অবস্থায় আসরের ওয়াক্ত হয়ে যায় কিংবা সে জখমের পট্টির উপর মাসহকারী ছিলো, জখম ভাল হওয়ার কারণে পট্টি খুলে পড়ে যায় কিংবা সে মা’যূর ছিলো, কিন্তু তার ওযর দূর হয়ে যায়, যেমন মুস্তাহাবা নারী ও তার সমশ্রেণীভুক্ত অন্যান্যরা – এই সকল অবস্থায় সালাত বাতিল হয়ে যাবে। এ হল আবূ হানীফা (র.) এর মত। আর ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, তার সালাত পূর্ণ হয়ে গেছে।

কারো কারো মতে এ বিষয়ে আসল কথা এই যে, আবূ হানীফা (র.) এর মতে মুসল্লীর নিজস্ব কোন ‘কর্ম’ দ্বারা সালাত থেকে বের হয়ে আসা ফরজ, কিন্তু ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে তা ফরজ নয়। সুতরাং ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে এই অবস্থায় (অর্থাত্ তাশাহুদের পরে) এ সকল ‘আপদ’ দেখা দেওয়া সালাতের মধ্যে দেখা দেওয়ারই সমতুল্য। আর ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর মতে সালামের পরে দেখা দেওয়ার সমতুল্য। উক্ত ইমামদ্বয়ের দলীল হলো ইতোপূর্বে বর্ণিত ইবন মাস’উদ (রা) এর হাদীছ। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, বর্তমান সালাত থেকে বের হওয়া ছাড়া অন্য সালাত আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আর যে কাজ ছাড়া কোন ফরজ কাজে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়, সে কাজটিও ফরজ। আর (হাদীছে বর্ণিত) কাদাত্ শব্দটির অর্থ হলো সম্পূর্ণ কাছাকাছি এসেছে। আর স্থলবর্তী করা (স্বকীয়ভাবে) সালাত ভংগকারী নয়। এজন্যই কিরাত পাঠে সক্ষম ব্যক্তি (কে স্থলবর্তী করা) এর ক্ষেত্রে জাইয হয়। বরং এখানে ফাসাদ এসেছে একটি শরীআতী হুকুমের অনিবার্য প্রয়োজনে। আর তা হলো (উম্মী ব্যক্তিটির) ইমামতি করার অযোগ্যতা। যে ব্যক্তি ইমামের এক রাকাআত হওয়ার পর ইকতিদা করলো, তারপর ইমাম হাদাছগ্রস্ত হয়ে তাকে আগে বাড়িয়ে দিলেন, তার পক্ষে (ইমামের স্থলবর্তী হওয়ার) অবকাশ আছে। কেননা, তাহরীমাতে (উভয়ের) অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে ইমামের জন্য উত্তম হলো প্রথম থেকে অংশ গ্রহণকারী কোন ব্যক্তিকে আগে বাড়ানো। কেননা, সে ইমামের সালাতকে সম্পন্ন করার ব্যপারে (মাসবুকের তুলনায়) অধিকতর সক্ষম। আর মাসবূকের উচিত সালাম ফিরানো ব্যাপারে নিজের অপারগতার কথা বিবেচনা করে অগ্রসর না হওয়া। মাসবূক যদি (ইমামের স্থলবর্তী হওয়ার উদ্দেশ্যে) অগ্রসর হয়, তাহলে ইমাম যেখানে এসে শেষ করেছেন, সেখান থেকে সে শুরু করবে। কেননা, এখন সে ইমামের স্থলবর্তী। যখন সে সালাম পর্যন্ত উপনীত হবে তখন ইমামের সাথে প্রথম থেকে অংশগ্রহণকারী কোন ব্যক্তিকে আগে বাড়িয়ে দিবে। সে মুক্তাদীদের নিয়ে সালাম ফিরাবে। কিন্তু এই মাসবূক যদি ইমামের সালাত সম্পন্ন করার পর অট্টহাস্য করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে হাদাছ ঘটায় বা কথা বলে বা মসজিদ থেকে বের হয়ে আসে, তাহলে তার সালাত ফাসিদ হবে আর মুক্তাদীদের সালাত পূর্ণ হবে। কেননা তার ক্ষেত্রে সালাত ফাসাদকারী বিষয়টি সালাতের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু মুক্তাদীদের ক্ষেত্রে সকল রুকন সম্পন্ন হওয়ার পর পাওয়া গিয়েছে। আর প্রথম যদি (অন্যান্যদের সাথে দ্বিতীয় ইমামের পিছনে) সালাত থেকে ফারেগ হয়ে থাকে, তাহলে তার সালাত ফাসিদ হবে না। আর ফারেগ না হয়ে থাকলে ফাসিদ হয়ে যাবে। এটাই বিশুদ্ধতম মত। আর যদি প্রথম ইমামের হাদাছ না ঘটে এবং তাশাহুদ পরিমাণ বসেন তারপর অট্টহাস্য করেন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে হাদাছ ঘটান, তাহলে ঐ লোকের সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে, যে সালাতের প্রথম দিক পায়নি।

এটা ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মত। ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, ফাসিদ হবে না। পক্ষান্তরে ইমাম যদি কথা বলেন। কিংবা মসজিদ থেকে বের হয়ে যান তাহলে সকলের মতেই সালাত ফাসিদ হবে না। ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) এর দলীল এই যে, জাইয হওয়া ও ফাসিদ হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই মুক্তাদির সালাতের ভিত্তি হলো ইমামের সালাতের উপর। যেহেতু এখানে (সকলের মতেই) ইমামের সালাত ফাসিদ হয়নি, সেহেতু মুক্তাদীর সালাতও ফাসিদ হবে না। বিষয়টি সালাম বলা ও কথা বলার মতো হলো। ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর দলীল এই যে, অট্টহাস্য ইমামের সালাতের ঐ অংশকে ফাসিদ করে দেয় যে অংশ অট্টহাস্যের সাথে যুক্ত। সুতরাং মুক্তাদীর সালাতেরও ততটুকু ফাসিদ হয়ে যাবে। তবে ইমামের তো আর ‘বিনা’ করার প্রয়োজন নেই। আর মাসবূকের বিনা করার প্রয়োজন রয়েছে। আর ফাসিদের উপর বিনা করাও ফাসিদ। সালামের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। কেননা, সালাম তো সালাত সমাপ্তকারী। আর কথা সালামের সমমানের। তবে ইমামের উযূ ভঙ্গ হয়ে যাবে, যেহেতু অট্টহাস্য সালাতে থাকা অবস্থায় হয়েছে। যে ব্যক্তির রকুতে কিংবা সাজদায় হাদাছ হয়ে যায়, সে উযূ করে ‘ বিনা’ করবে এবং যে যে রুকুনে হাদাছ হয়েছে, তা গ্রহণীয় হবে না। কেননা রকুন পূর্ণ হয় তা থেকে প্রস্থানের মাধ্যমে। আর হাদাছ অবস্থায় প্রস্থান, সাব্যস্ত হয় না। সুতরাং (উক্ত রুকনটি) দোহরানো জরুরী। আর যদি তিনি ইমাম হয়ে থাকেন আর অন্যকে আগে বাড়িয়ে থাকেন, তবে যাকে আগে বাড়ানো হয়েছে, সে রুকু দীর্ঘায়িত করবে। কেননা, দীর্ঘায়িত করার দ্বারা পূর্ণ করা তার পক্ষে সম্ভব। যদি রুকুতে বা সাজদায় মনে পড়ে যে তার যিম্মায় একটি সাজদা রয়ে গেছে। তখন সে রুকু থেকেই সাজদায় নেমে গেলো কিংবা সাজদা থেকে মাথা তুলে ঐ সাজদাটি করে নিলো তবে রুকু বা সাজদাতে দোহরাবে। এটা হলো উত্তম হওয়ার বর্ণনা। যাতে রুকনগুলো যথাসম্ভব তারতীব মুতাবিক হয়। আর যদি না দোহরানো না হয় তবু চলবে।

কেননা সালাতের রকুনগুলো সাথে তারতীব রক্ষা করা শর্ত নয়। তা ছাড়া তাহারাতের অবস্থায় (অন্য রুকনে) গমন শর্ত। আর তা তো পাওয়া গেছে। ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) থেকে বর্ণিত যে, তার জন্য রুকু দোহরানো জরুরী। কেননা তার মতে ‘কাওমা’ হলো ফরজ। যে ব্যক্তি মাত্র একজন মুক্তাদীর ইমামতি করছে, এমতাবস্থায় তার হাদাছ ঘটানো আর সে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলো, তখন মুক্তাদী ইমাম হয়ে যাবে, তাকে স্থলবর্তী করার নিয়্যত করুন কিংবা না করুন। কেননা, এতে সালাত রক্ষার উপায় হয়। আর প্রথমজন দ্বিতীয় জনের মুক্তাদী হয়ে সালাত সম্পূর্ণ করবে। প্রকৃতই তাকে স্থলবর্তী করলে যেমন করতো। যদি তার পিছনে বালক বা স্ত্রী লোক ছাড়া অন্য কেউ না থাকে, তবে কারো কারো মতে তার সালাত ফাসিদ হয়ে যাবে। কেননা, যার ইমামতি জাইয নেই, সে স্থলবর্তী হয়েছে। অন্য মতে তার সালাত ফাসিদ হবে না। কেননা ইচ্ছাকৃতভাবে ‘স্থলবর্তীকরণ’ পাওয়া যায়নি এবং তার ইমামতি করার যোগ্যতা নেই। মূল- শায়খুল ইসলাম বুরহান উদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবন আবূ বকর আল-ফারগানী [রহ.]

Share This Post