Spread the love

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিবাসী শহিদ বিন ইউসুফ তাকালা। আফ্রিকা থেকে পায়ে হেঁটে ফিলিস্তিনের মসজিদ আল আকসায় নামাজ আদায় করবেন বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন তিনি।

দুই বছর পর তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ হয়। পায়ে হেঁটে মসজিদ আল আকসায় পৌঁছলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হন তিনি।

ফিলিস্তিনের সংবাদ মাধ্যম জানায়, ২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দর নগরী ক্যাপ টাউন থেকে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তাকালা। ফিলিস্তিনের অধিকৃত নগর জেরুজালেমে এসে মসজিদ আল আকসায় নামাজ আদায় করতে তিনি ৯টি দেশ পাড়ি দেন।

এতে তাঁর সময় লাগে প্রায় আড়াই বছর। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) রামাল্লাহ শহরের অফিসে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ ইশতিয়াহ আল আকসায় পায়ে হেঁটে আসা তরুণ তাকালাকে অভিনন্দন জানান।

তাকালাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ইশতিয়াহ বলেন, ‘ফিলিস্তিন ও জেরুজালেম নগরে আপনার উপস্থিতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন। দখলদারিত্বের অবসান হয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন গঠন প্রতিষ্ঠিত হলে আমরা আপনাকে বিমান পথে আসার আমন্ত্রণ জানাব।’

জেরুজালেম পৌঁছতে রশিদ তাকালা বেশ কটি দেশ অতিক্রম করেন। জিম্বাবুয়ে, তানজানিয়া, জাম্বিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, সুদান, মিসর, গাজা ও জর্দান। তাঁর অ্যাডভেঞ্চারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৈশ্বিক মহামারি করোনা কভিড-১৯।

করোনার কারণে অনেক দিন যাবত দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তিনি। তবে করোনা মহামারিতে আটকা পড়ায় আরেকটি সুযোগ লুফে নেন তিনি। নতুন আরেক অ্যাডভেঞ্চারের স্বপ্ন বুনেন মনে। এবার তিনি পবিত্র হজ পালন করতে জেরুজালেম থেকে সৌদিআরব গমন করবেন।

মক্কায় হজ পালন করে দেশে ফিরবেন তিনি। ফিলিস্তিনের সংবাদ মাধ্যম সাওয়াকে তাকালা বলেন, ‘সব প্রশংসা মহান আল্লাহর। এখন আমি আল আকসা মসজিদে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছি। ফজর নামাজ থেকে এশার নামাজ সব নামাজ আল আকসায় আদায়ের করতে পারছি।’

নিজ জীবনের এমন দুর্দান্ত ভ্রমণের কথা টুকে রাখতে একটি ভ্রমণবৃত্তান্ত লিখবেন তাকালা। ভ্রমণকালে নিজ চোখে দেখা অবাক করা দৃশ্যাবলির চিত্রায়ন করবেন তাতে।

এমনকি বইয়ের নামও তিনি নির্বাচন করে ফেলেছেন তাকালা। করোনাকালের অ্যাডভ্যাঞ্চারের গল্প লিখবেন ‘রুহি আশ শুজাআহ’ বা ‘সাহসী প্রাণ’ শিরোনামে।

Share This Post