Spread the love

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, পশ্চিমা হলুদ মিডিয়াগুলো বাকস্বাধীনতার নামে যাচ্ছেতাই প্রচার করে বেড়াতে পারে, তারা ফিলিস্তিনি শিশুদের উপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের নিপীড়ন ও নির্যাতনের কথা প্রচার করতে পারে না।

গত মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) তুরস্কের জনপ্রিয় গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেছেন বলে বুধবার (২ ডিসেম্বর) দেশটির গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে।

এরদোগান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভূক্ত দেশ যেমন, ফ্রান্সের অনেক ভয়ংকর বিষয়াদিতে ভ্রুক্ষেপ না করে তুরস্কের বাস্তবতা পরিবর্তনের জঘন্য চেষ্টার মাধ্যমে তুরস্কের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো!

তিনি বলেন, মূলত ২০১৩ সালে ইস্তাম্বুলের তাকসিম গাজী স্কয়ারে বিক্ষোভের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে তুরস্ককে অসভ্য কথন ও দ্বিমাত্রিক সমস্যার সম্মুখীন করা হচ্ছে। ২৪ ঘন্টা সরাসরি সম্প্রচারকারী আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো তাদের মিডিয়ায়, যারা জ্বালাও-পোড়াও করেছে তাদেরকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী রূপে উপস্থাপন করেছে!

সকলের কাছে প্রশ্ন রেখে এরদোগান বলেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীরা শত শত ও হাজার হাজার সাধারণ সিরিয়ান নাগরিককে যে মেরে ফেলছে, এই সমস্ত হলুদ মিডিয়া কি তাদের সঠিক তথ্য তুলে ধরতে কোনো লাইভ কভারেজ এখন পর্যন্ত করেছে?

তাছাড়া আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর তুমুল মিথ্যাচার ও বৈষম্যমূলক সংবাদ প্রচারের কঠোর সমালোচনা করে এরদোগান বলেন,আমাদেরকে বাকস্বাধীনতা শিখাতে আসা আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো যখন একই ধরণের ঘটনা বিভিন্ন ইউরোপিয়ান কান্ট্রিতে দেখে তখন তারা উট পাখির ভূমিকা পালন করে (মাটির নীচে মাথা গুজে রাখা) এমনকি সেগুলো তারা এড়িয়ে যায়!

তুর্কী প্রেসিডেন্ট বলেন, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গত কয়েকমাস ধরে চলা ইয়েলো ভেস্ট বিক্ষোভে ফ্রেঞ্চ পুলিশ অফিসারদের অন্যায় হস্তক্ষেপের দোষে অন্ধ হয়ে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের বিষয়টি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো কখনো তাদের মিডিয়ায় তুলে ধরেনি। এমনকি রাষ্ট্রীয়ভাবে মিডিয়ার উপর ফ্রেঞ্চ সরকারের অবরোধ আরোপের বিষয়েও তারা টু শব্দ করেনি!

তাছাড়া, আইনের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বৃদ্ধি পেতে থাকা মিডিয়া প্লাটফর্মের ডিজিটালাইজেশনেরও সমালোচনা করেন এরদোগান।

তিনি বলেন, মিডিয়া যদি এমন প্লাটফর্মে পরিণত হয় যে,তা আইন বহির্ভূত নিয়ন্ত্রণহীন একটি মাধ্যম তবে স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধি পেতে পেতে তা আমাদেরকে সরাসরি ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাবে।

তুর্কী প্রেসিডেন্ট বলেন, সীমাহীন বাকস্বাধীনতার চমকপ্রদ বলয়ের ফলে এর ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া ভুক্তভোগীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি ভুক্তভোগীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা আইন সহায়তা কেন্দ্রও খুঁজে পায় না!

তিনি বলেন, যে সিস্টেমে বা ব্যবস্থাপনায় অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়া যায়, তার গায়ে স্বাধীনতার তকমা লাগানো যায় না।

ব্যাপক হারে আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর ডিজিটালাইজেশনের ভালো দিকের পাশাপাশি খারাপ দিক উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, ডিজিটালাইজেশন স্বাধীনতার ক্ষেত্রকে যেমন প্রসারিত করে, ঠিক তেমনি নতুন আঙ্গিকে বৈষম্য, অবিচার এবং প্রান্তিকীকরণের দিকেও পরিচালিত করে যা মোটেও উচিত নয়। এক্ষেত্রে আমার আহবান হলো, বাকস্বাধীনতার নামে মানহানি বন্ধ করা উচিত।

সূত্র: মিডলইস্টে মনিটর।

Share This Post