Spread the love

বাংলার গায়েন চ্যাম্পিয়ন রাসেল মৃধা অন্ধ মাকে জড়িয়ে ধরলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ের তিনি। এসময় মাকে চুমু দিয়ে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা রাসেল মৃধার। এসময় এক আবেঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আরটিভি বেঙ্গল সিমেন্ট আয়োজিত ’বাঙলার গায়েন’ প্রতিযোগীতার ফাইনাল রাউন্ডের অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগীতায় রাজশাহী অঞ্চলের প্রতিযোগী পাবনার চাটমোহর উপজেলার সন্তান রাসেল মৃধা প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

আরটিভিতে চুড়ান্ত ফলাফলে রাসেলের নাম ঘোষনা করার পরেই সমস্ত চাটমোহর উপজেলা আনন্দ আর মিছিলে যুবকদের উৎসব পালন করতে দেখা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের আনন্দ মিছিল। বুধবার সকাল থেকে চাটমোহর উপজেলার চা স্টল থেকে শুরু করে গ্রাম গঞ্জের মাঠে প্রান্তরে শুধু রাসেল বন্দ্বনা। বাজারে, গ্রামে উচ্চ স্বরে সাউন্ড বক্স, মাইকে বাজছে রাসেলের গান।

প্রথম স্থান অর্জন করা রাসেল দুপুর পরে নিজ জন্মস্থান চাটমোহরে পদার্পন করেন। তাকে রাস্তা থেকে বরণ করতে চাটমোহরের শত শত যুবক মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস নিয়ে দুপুরের আগেই চলে যায় নাটোর জেলার কাছিকাটা বিশ্বরোড এলাকায়। সেখান থেকে তাকে মিছিলে মিছিলে বরন করে চাটমোহর উপজেলায় প্রবেশ করা হয়।

সেখান থেকে তাকে নিয়ে বিকেলে নিজ বাড়ি চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের দোলং গ্রামে পৌঁছায় সবাই। সেখানে অন্ধ মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলার গায়েন চ্যাম্পিয়ন রাসেল মৃধা। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাকে এক নজর দেখতে রাস্তার দুই পাশে ও বাড়িতে ভীড় জমায় হাজারো মানুষ।

পরে রাসেলকে গাড়িতে করে নিয়ে বাদ্য বাজনা সহ পুরো চাটমোহর পৌর সদর প্রদক্ষিণ করে সবাই। এছাড়া নিজ গ্রাম দোলং যুব উন্নয়ন ও একতা সমিতির উদ্যোগে তাকে ফুলেল সংবর্ধনা জানায় এলাকাবাসী।

এক প্রতিক্রিয়ায় রাসেল মৃধা সাংবদিকদের জানান, আমি কল্পনাও করতে পারি নাই, মানুষের এতো ভালবাসা পাবো। আমি এলাকাবাসী ও সারাদেশের মানুষের এত ভালবাসা পেয়েছি যে অনুভূতিটা বলে বোঝাতে পারবো না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আমার মায়ের দৃষ্টি যেন ফিরে পান, আবার যেন আমাকে দেখতে পান।

রাসেল মৃধার বড় ভাই মজনু মৃধা ও বোন লিলি খাতুন বিডি২৪লাইভকে জানান, আমাদের ভাই আরটিভিতে বাংলার গায়েন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দেশবাসী সবার দোয়া ও ভালবাসায়। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সবার কাছে দোয়া চাই, রাসেল যেন আরো অনেকদুর যেতে পারে, সবার ভালবাসার মর্যাদা রাখতে পারে। সেইসাথে সবাই দোয়া করবেন আমাদের মা যেন তার চোখের দৃষ্টি ফিরে পেয়ে তার ছোট্ট রাসেলকে দেখতে পারে।

উল্লেখ্য, চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের দোলং গ্রামের মৃত সবুর আলী মৃধা ও মোছা: মঞ্জুায়ারা বেগমের ছেলে রাসেল মৃধা (২৮)। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট রাসেল। রাসেলের জন্মের ৬ বছর পর দৃষ্টিশক্তি হারান তার মা। বর্তমানে বয়সের ভারে কথা বলার শক্তিও হারিয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাসেল মৃধা ছোটবেলা থেকে গানটাকে ভালবেসে গেছেন।

এছাড়া বুধবার চাটমোহর উপজেলায় ঢাকা থেকে রাসেলের আগমন উপলক্ষে এলাকার যুব সমাজ সংবর্ধনা সহ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। চাটমোহরের বিশিষ্ঠজনদের অভিনন্দন জোয়ারে ভাসছেন রাসেল।

Share This Post