Spread the love

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যের আলোকে ২০২০ সালের বিশ্বের ধনী দেশগুলোর তালিকা করেছে গ্লোবাল ফাইন্যান্স ম্যাগাজিন। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেইজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি) জিডিপির ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়েছে।

নিচে শীর্ষ ১০ দেশের বিবরণ তুলে ধরা হলোঃ

১০. সুইজারল্যান্ডঃ সুইজারল্যান্ডের বর্তমান ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ৬৭ হাজার ৬০০ ডলার৷ সে দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ৯ হাজার ৪২৮ জনই মিলিওনেয়ার।

৯. কুয়েতঃ বিশ্বের মোট তেলের ৬ শতাংশই কুয়েতের৷ দেশটির বর্তমান ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ৬৭ হাজার ৯০০ ডলার৷ কুয়েতের মোট দেশজ উৎপাদন জিডিপির ৪০ শতাংশ আসে তেল থেকে, রপ্তানির ৯০ শতাংশই তেল।

৮. সংযুক্ত আরব আমিরাতঃ করোনার কারণে এবার দুবাই ওয়ার্ল্ড এক্সপো করতে পারছে না, এটা একটা বড় ধাক্কা৷ এই এক্সপোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আড়াই কোটি মানুষ অংশ নেন৷ ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ৭০ হাজার ৪০০ ডলার৷ তেল বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয়৷ এছাড়া বাণিজ্য, নির্মাণ ও পর্যটন থেকে দেশটির আয় আছে।

৭. নরওয়েঃ ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ৭৯ হাজার ৬০০ ডলার৷ ১৯৬০ সালে এখানে তেলের খনি আবিষ্কারের পর যত দিন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছিল, তত দিন দেশটির সমৃদ্ধি কেবলই বেড়েছে৷ আয়ের বৈষম্যের দিক থেকে নরওয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।

৬. ব্রুনেই দারুস সালামঃ তেলসহ বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে দেশটির। ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ৮৫ হাজার ডলার৷ আয়ের বৈষম্য ও পুষ্টিহীনতাও প্রকট৷ সাড়ে চার লাখ অধিবাসীর এই দেশে ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের আয় বছরে এক হাজার ডলারের কম।

৫. আয়ারল্যান্ডঃ ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ৮৭ হাজার ডলার। করোনার আগে ব্রেক্সিট, বাণিজ্যযুদ্ধ, উদ্বাস্তুসহ নানা সমস্যায় যখন ইউরোপ ছিল জর্জরিত, তখনও আয়ারল্যান্ডের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ, যেখানে ইউরোপের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ।

৪. সিঙ্গাপুরঃ এশিয়ার অন্যতম করের স্বর্গরাজ্য বলা হয় দেশটিকে। ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ১ লাখ ৫ হাজার ৭০০ ডলার৷ ১৯৬৫ সালে স্বাধীন হওয়ার সময় দেশটির তেমন কিছুই ছিল না৷ কিন্তু কঠোর পরিশ্রম, স্মার্ট নীতি ও সঠিক নেতৃত্বের গুণে সিঙ্গাপুর এখন অন্যতম ধনী দেশ।

৩. লুক্সেমবার্গঃ ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ১ লাখ ১২ হাজার ডলার। ইউরোপের আরেক ট্যাক্স হ্যাভেন। সর্বোচ্চ মানের জীবনযাপনের দেশ লুক্সেমবার্গ। বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায়৷ ২০১৫ সালে প্রথম দেশটির মাথাপিছু আয় এক লাখ ডলার অতিক্রম করে। এমনকি করোনা মহামারিতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের আয় খুব একটা কমবে না।

২. ম্যাকাওঃ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চীনের প্রশাসনিক অঞ্চল ম্যাকাও। ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৬২ ডলার৷ মাত্র ৬ লাখ অধিবাসীর এই অঞ্চলে ৪০টির বেশি ক্যাসিনো আছে৷ করোনার কারণে ক্যাসিনো বন্ধ ছিল, গত জুলাই থেকে আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।

১. কাতারঃ বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশ। ‘আন্তর্জাতিক ডলার’ ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ ডলার৷ ২০ বছর ধরেই তারা শীর্ষ ধনী দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে। এর অধিবাসী মাত্র ২৮ লাখ৷ ২০১৪ সালের পর থেকে কাতারের অধিবাসীর মাথাপিছু আয় প্রতিবছর কমছে ১৫ হাজার ডলার।

Share This Post