Spread the love

মসজিদে নববির মেহরাব স্থাপত্য সভ্যতা, নির্মাণশৈলী এবং সৌন্দর্য শিল্পের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ফলে মসজিদে নববির মেহরাবগুলোতে অত্যন্ত নৈপূণ্যর সাথে খোদাই করে অংকিত ফুল ও বিভিন্ন কারুকার্যের সৌন্দর্য দেখে মসজিদে নববীর আশেক ও দর্শনার্থীরা মুগ্ধ না হয়ে পারে না। ১৪০৪ হিজরীতে বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ মসজিদে নববীর মেহরাবগুলোর সাজ-সজ্জা ও সৌন্দর্য বর্ধন করেন।

আরবি ‘উকাজ, এবং আল-মাদিনা নিউজ ও আলজাজিরার এক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে মসজিদে নববীতে ছয়টি মেহরাব রয়েছে৷

এক—মেহরাবে নববি,
দুই—মেহরাবে ফাতেমি,
তিন—তাহাজ্জুদের মেহরাব,
চার—মেহরাবে উসমানি,
পাঁচ—মেহরাবে সুলায়মানি,
ছয়—মেহরাবে শাইখুল হারাম৷
ইসলামে সর্বপ্রথম মেহরাব নির্মান করেন ওমর ইবনে আবদুল আজীজ রহ.৷

মেহরাবে নববি৷ এটি পবিত্র রওজা শরীফের মধ্যে অবস্থিত৷ হুজুর সা._র যুগে বর্তমান প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো মেহরাব ছিলোনা৷ ওমর ইবনে আবদুল আজিজ রহঃ সর্বপ্রথম প্রচলিত পদ্ধতিতে মেহরাব নির্মান করেন৷ কিবলা পরিবর্তনের পর হুজুর সা. যে স্থানে দাড়িয়ে সাহাবীদের নামাজ পড়াতেন, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ. সেইস্থানে এটি নির্মান করেন৷ তবে সুলতান কায়তাবাইয়ের শাসনকালে ৮৮৮ হিজরিতে মর্মর ও মার্বেল পাথর দ্বারা তা সংস্করণ করেন৷ পরবর্তীতে মেহরাবের মর্মর ও মার্বেল পাথর এবং তার রঙে ত্রুটি দেখা দিলে বাদশা ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ১৪০৪ হিজরিতে তা মেরামত করেন।

মেহরাবে ফাতেমি৷ এটি হযরত ফাতেমা রা. র হুজরা খানায় অবস্থিত৷ এ মেহরাবটি মেহরাবে নববীর সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ৷ এবং এটি বাদশাহ মামলুকের যুগে নির্মিত হয়েছে৷

মসজিদ নববির তাহাজ্জুদের মিহরাবটি গম্বুজের উত্তর দিকে এবং ফাতেমা রা.র হুজরার পেছনে হুজুর সাঃ_র হুজরা খানার জায়গায় অবস্থিত। এটিই সেই জায়গা যেখানে হুজুর সা. তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তেন।

ইতিহাস প্রমাণ করে যে ইবনে নাজ্জারের যুগে ও মিহরাব তাহাজ্জুদ বিদ্যমান ছিল। তিনি ৬৪৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
বাদশাহ কায়তাবাই এটিকে সংস্কার করেছিলেন৷ এরপর খিলাফাতে উসমানিয়ার শাসক বর্গরা আরেকবার সংস্কার করেছিলেন৷ এই সংস্কারের সময় তাঁরা নির্বাচন করেছিলেন মূল্যবান লাল পাথরের টুকরা ৷ আর তাহাজ্জুদের আয়াতটি এতে স্বর্ণ দ্বারা খোদাই করে লিখা হয়। এই মিহরাব এখনও বিদ্যমান রয়েছে৷

আর মিহরাবে উসমানি, এটি মসজিদে নববির কিবলার দিকের দেয়ালে নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে ইমাম সাহেবরা এখানে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ান৷ ওমর ইবনে আবদুল আজিজ ওযালিদ ইবনে আবদুল মালিকের শাসনামলে ৯১ হিজরিতে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফান রাঃ_র নামাযের জায়গায় এ মিহরাব তৈরি করেছিলেন, পরবর্তীতে ৮৮৮ হিজরিতে সুলতান কায়েতাবাই এটিকে সংস্কার করেন৷ এখনো মেহরাবটি ঐ রুপেই বিদ্যমান রয়েছে৷

মিহরাবে সোলাইমানি মসজিদ নববির মিম্বরের পশ্চিমে তৃতীয় স্তম্ভের নিকটে অবস্থিত। এটি নবম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে নির্মিত হয়েছিল। এটিকে মেহরাবে হানাফী ও বলা হয়৷

এটি সুলতান সুলায়মান খাঁন, যিনি আল-কানুনি উপাধি দ্বারা পরিচিত ছিলেন, ৯৪৮ হিজরিতে নবায়ন করেন৷ সাদা এবং কালো মার্বেল পাথরের ফুলের কারুকার্যে সজ্জিত করেন। তখন থেকে এটি মিহরাবে সোলায়মানি নামে পরিচিতি লাভ করে৷

মেহরাবে শাইখুল হারাম৷ এটি দাক্কাতুল আগাওয়াত থেকে প্রায় চার মিটার উত্তরে অবস্থিত৷ রমজান এলে হারামের শাইখ তার ইমামের পিছনে তারাবী পড়ার জন্য এই মেহরাবের কাছে দাড়াতেন৷ পরবর্তীতে তা মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়৷ তারা এখানে তারাবী পড়তো৷ বর্তমানে এ মেহরাব অপসারণ করা হয়েছে৷ সূত্র: আরবি বিবিসি, আলজাজিরা, আল- মাদিনা নিউজ, উকাজ ও উর্দূ নিউজ ৷

Share This Post