Spread the love

কোন হিফজ খানায় না গিয়ে মাত্র আড়াই বছরে মায়ের মুখে শুনে শুনে পবিত্র কুরআন মুখস্ত করে ফেলেছে। আমেরিকার নিউজার্সিতে অবস্থান করেও মুসলিম ও ইসলামিক কালচার থেকে সটকে পড়েনি এই ছোট হাফেজা।

বাংলাদেশের বগুড়ায় তার গ্রামের বাড়ি। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। ইউটিউবে রয়েছে তার নিজস্ব চ্যানেল। ১ মিলিয়ন এর উপরে সাবস্ক্রাইবার। রয়েছে নিজের নামে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ।

সারা পৃথিবী জুড়ে পিতৃ মাতৃ হীন শিশুদের নিয়ে কাজ করা আমেরিকান সংস্থা “ইসলামিক রিলিফ ইউ এস এ” এর দূত।

ইতিমধ্যেই সে সিরিয়ান ও ইয়েমেনের শিশুদের জন্য ২৫০০০ ডলার সংগ্রহ করেছে। যা কিনা বাংলাদেশী টাকায় ২৮০০০০০/-(আটাশ লক্ষ) টাকা। বর্তমানে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে।

বলছিলাম “মারিয়াম মাসুদ” এর কথা। যে ইতিমধ্যেই পুরো পৃথিবীর শিশুদের আইকনে পরিনত হয়েছে। তার সেই সৌভাগ্যবান বাবা মাসুদুর রহমান যিনি আমেরিকায় একটি সফটওয়্যার কম্পানিতে কাজ করছে।

একটা শিশুকে তার বাবা মা ই পারে আদর্শিকভাবে গড়ে তুলতে। চাই একটু পরিশ্রম, সুস্থ কৌশল ও সদিচ্ছা।

আরো পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যসভায় প্রথমবারের মতো মুসলিম ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে ইয়াসির খানকে !

ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যসভায় প্রথমবারের মতো মুসলিম ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর এ পদে নিয়োগ পেয়ে ইতিহাস গড়লেন মোহাম্মদ ইয়াসির খান। ২০২১-২০২০ সালের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্যসভায় ইমাম নিয়োগ দিয়েছেন স্পিকার অ্যান্থোনি রেনদন।

৭ ডিসেম্বর মোহাম্মদ ইয়াসির খান এ পদে নিয়োগ দেয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। খবরে প্রকাশ, এক বিবৃতিতে রেনদন বলেন, ইমাম ইয়াসির খান ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আমি দেখেছি আমাদের জেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ধর্মীয় ও সমাজের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছি।

ইয়াসির খানও ক্যালিফোর্নিয়ার আধ্যাত্মিক ও নাগরিক প্রাণশক্তিতে অবদান রাখার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপায়ে সেটি করেছেনও। ইয়াসির খান গত ছয় বছর ধরে স্থানীয় কাউন্টিতে জেল, শেরিফ অফিস ও হাসপাতালগুলোতে কাজ করেছেন। তিনি ইতিমধ্যেই একটি অলাভজনক সংস্থা আল-মিসবাহর প্রতিষ্ঠাতা।

ইমাম হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ইয়াসির খান বলেন, আল্লাহ আমাকে এখানে এনেছেন এবং আমি এই ভূমিকায় নির্বাচিত হওয়ায় অত্যন্ত সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। আশা করি, এটি দেশের অন্য ইমাম ও ইসলামী নেতাদের পদপ্রাপ্তির একটি পদক্ষেপ হবে। রাজ্যসভায় ইমামের কাজ মূলত প্রতিটি অধিবেশন শুরুর আগে দোয়া পাঠ করা।

তবে ইয়াসির খানের আশা, এটি মুসলিমদের অন্য সম্প্রদায়গুলোর আরো কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেবে।

আরো পড়ুন: মুসলমানদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় !

ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক একটি সিদ্ধান্ত দিলো ৩ জন মুসলিম-আমেরিকান যুবকের পক্ষে। নিজ ধর্মের লোকজনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করতে অপারগতা প্রকাশ করায় এই যুবকদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিমান ভ্রমণে নিষিদ্ধদের তালিকায় উঠিয়েছিল এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তা।

এমনকি, তারা টিকিট কেটে এয়ারপোর্টে গিয়েও বিমানে উঠতে সক্ষম হননি। এমন অপমানজনক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঐ যুবকেরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন ন্যায়-বিচার প্রত্যাশায়। মামলায় এমন কান্ডের জন্যে এফবিআইয়ের ঐ অফিসারকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার অনুমতি চান।

বিমানে বিপজ্জনক যাত্রী’ হিসেবে যে তালিকা রয়েছে সেখানে তাদের নাম থাকার কোনই কারণ নেই। তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক অথবা অভ্যন্তরীণভাবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সহযোগি নন এবং কোন ধরনের ক্রাইমেও কখনো লিপ্ত ছিলেন না।

১০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জাস্টিস এ্যামি কোনি ব্যারেটের বেঞ্চে অনুষ্ঠিত বিস্তারিত শুনানী শেষে ৮-০ ভোটে তিন যুবকের পক্ষে রায় দিয়ে বলা হয় যে, তারা এফবিআইয়ের ঐ কর্মকর্তাগণের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন।

১৯৯৩ সালের ‘দ্য রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টুরেশন এ্যাক্ট’ (the Religious Freedom Restoration Act (RFRA) আইন অনুযায়ী ফেডারেল সরকারের কেউই ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করা হয়-এমন কোন কাজে লিপ্ত অথবা মদদদান করতে পারেন না।

সে অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনজন সম্মিলিতভাবে এফবিআইয়ের কর্মকর্তা/গণের নামোল্লেখ করে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলার অনুমতি পেলেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মোহাম্মদ তানভির, জামিল আলজিবাহ এবং নাভিদ শিনওয়ারিকে ফেডারেল সরকারের ‘নো ফ্লাই’ তালিকায় উঠানো হয়।

এ তালিকা শুরু হয়েছে ৯/১১ এ সন্ত্রাসী হামলার পর। সময়ে সময়ে সেখানে নতুন নাম যুক্ত করা হচ্ছে। সর্বশেষ এ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মুসলিম বিদ্বেষমূলক আরেকটি আচরণের নিন্দা-উচ্চারিত হলো।

Share This Post