Spread the love

দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, মূর্তি এবং ভাস্কর্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে দুটোই সমান এবং অবৈধ। সুতরাং এগুলোর মধ্যে নুন্যতম কোনো পার্থক্য করে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি বানানো ইসলাম আদৌ সমর্থন করে না। যদিও সেই ভাস্কর্য এবং মূর্তি কোনো নবী বা রাসূলেরই হোক না কেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) হাটহাজারী মাদরাসার দারুল হাদীসে বোখারী শরীফের দরস দানকালে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে পবিত্র কা’বা শরীফে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। সেখানে আমাদের জাতির পিতা হজরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের মূর্তি বা ভাস্কর্যও ছিল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মূর্তিগুলোকে ভাঙলেন তখন একটা মূতিকেও তিনি রাখলেন না। সবগুলোকেই তিনি ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিলেন। এমনকি হজরত ইব্রাহীমের মূর্তিটিকেও তিনি লাঠির আঘাতে জর্জরিত করে গুড়িয়ে দিলেন। “এটা আমাদের জাতির পিতার ভাস্কর্য বা হজরত ইব্রাহীম আ.-এর ভাস্কর্য, সুতরাং এটা ভাঙা যাবে না” এধরণের আবেগি কথাবার্তা বলে মূর্তি ভাঙা থেকে তিনি একটুও নিভৃত হননি। এর থেকে বুঝা যায়, ইসলামে মূর্তি বা ভাস্কর্যের কোনো স্থান নেই। ইসলাম এগুলোকে সরাসরি অবৈধ ঘোষণা করেছে। কেননা ইব্রাহীম আলাহিস সালামের মতো এতবড় একজন নবীর ভাস্কর্যকে যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে ধ্বংস করেছেন এবং সরাসরি মূর্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সেখানে দুনিয়ার অন্য কোনো নেতা বা নেত্রীর ভাস্কর্য স্থাপন করা অবশ্যই ইসলাম পরিপন্থী এবং একটি জঘন্য গর্হিত কাজ। এমন অবৈধ কাজ থেকে অবশ্যই আমাদের বিরত থাকা উচিৎ।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, জানদার বস্তুর মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণকারীদেরকে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন কঠিন থেকে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন। এবং তাদের আবিষ্কৃত মূর্তি বা ভাস্কর্যের মধ্যে তাদেরকে জীবন দেওয়ার জন্য বাধ্য করবেন। জীবন দিতে না পারলে তাদের জন্য তিনি জাহান্নামের কঠিন আজাবের ঘোষণা করেছেন। তাই এবিষয়ে আমাদের অবশ্যই ভেবেচিন্তে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, কাদিয়ানীরা আগাগোড়া মুশরিক এবং কাফের। তাদেরকে যারা কাফের বলে স্বীকার করবে না তারাও কাফের। কারণ, কাদিয়ানীরা হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আখেরি পয়গম্বর বলে বিশ্বাস করে না৷ সুতরাং যারা আখেরি পয়গম্বরকে বিশ্বাস করে না তারা কোনোভাবেই মুসলিম বলে গণ্য হতে পারে না।

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র মক্কা এবং মদিনা শরীফে কাফের-মুশরিকদেরকে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন৷ এবং তাদের জন্য সেই স্থানগুলোকে হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। সে হিসেবে কাদিয়ানীদের জন্যও সেখানে যাওয়া হারাম এবং নিষিদ্ধ। কিন্তু সরকার তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণা না করার কারণে কাফের হওয়া সত্বেও মুসলিম পরিচয়ে তারা হরহামেশাই সেই পবিত্র ভূমিতে যাচ্ছে এবং প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে। এরজন্য সম্পূর্ণ দায়ী হলো সরকার। কেয়ামতের দিন এরজন্য সরকারকে অবশ্যই আল্লাহর কাছে কঠোর জবাবদিহিতা করতে হবে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লাহর জবাবদিহিতা থেকে বাঁচতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে কাফের ঘোষণা করতে হবে। এবং পবিত্র মক্কা-মদিনাতে তাদের যাওয়াকে কঠোরভাবে নিষিধ করতে হবে।

Share This Post