Spread the love

সম্প্রতি, স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটা ভিডিওতে ফুটে উঠেছে এই নিদারুণ দৃশ্যটি। যেখানে দেখাগেছে ছোট্ট শিশুটির পুরো শরীর জুড়ে বিভিন্ন টিউব লাগানো আর সেই অবস্থায় বাচ্চাটি নামাজ পরছিল।

মৃত্যুর দুয়ারে এসেও শিশুটি নামাজ ছাড়েনি! যানিনা সে কোন মায়ের সন্তান। ধন্য সেই মা, যে তাকে জন্ম দিয়েছেন। আল্লাহ যেনো এই শিশুটিকে সুস্থ করে তুলেনআমাদের চোখের সামনে এমন কতইনা ঘটনা ঘটছে দিন কি দিন। হায় জীবন…! কেউ বাঁচার জন্য আকুল হয়ে পরে আবার কেউ ইচ্ছে করেই বিদায় জানায়। তবুও যেনো একটা গল্পের মোর থেকেই যায় দুনিয়ার বুকে।ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধু ইসলাম ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা এবং প্রসারে যা করেছেন, ইসলামের নামে মুখোশধারী সরকারগুলো তা কখনও করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর পর আমার সরকার ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার এবং প্রসারে যত কাজ করেছে, অতীতে কোনও সরকারই তা করেনি।মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।সরকার প্রধান বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধু ইসলাম ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা এবং প্রসারে যা করেছেন, ইসলামের নামে মুখোশধারী সরকারগুলো তা কখনও করেনি। আইন করে মদ-জুয়া-ঘোড়দৌড় নিষিদ্ধ করা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা, মাদ্রাসা বোর্ড স্থাপন, ওআইসি’র সদস্যপদ অর্জনের মতো কাজগুলো বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাস্তবায়িত হয়েছিল।

পরবর্তীতে আমার সরকার ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার এবং প্রসারে যত কাজ করেছে, অতীতে কোনও সরকারই তা করেনি। আমরা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছি। ৮০টি মডেল মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছি এবং দাওয়ারে হাদিস পর্যায়কে মাস্টার্সের মান দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। প্রতিটি জেলা-উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সহায়তার জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় সারাদেশে মসজিদ-ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। লক্ষাধিক আলেম-ওলামায়ে কেরামের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ধর্মান্ধ নয়। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-সকল ধর্মের-বর্ণের মানুষের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। বিজয় দিবসের প্রাক্কালে তাই আসুন, আবারও আমরা শপথ নেই- আমরা যেনো লাখো শহীদের রক্তের ঋণ ভুলে না যাই। আমরা যেনো মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ভূলুণ্ঠিত হতে না দেই।যুবশক্তি, তরুণ সমাজ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা তোমাদের পূর্বসূরিদের আত্মোৎসর্গের কথা কখনও ভুলে যেও না। তাদের উপহার দেওয়া লাল-সবুজ পতাকার অসম্মান হতে দিও না। যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের বিজয়-নিশান সমুন্নত রাখার শপথ নাও, এই বিজয় দিবসে। প্রতিজ্ঞা করো- মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এদেশকে সোনার বাংলাদেশে পরিণত করবে। তবেই ৩০ লাখ শহীদের আত্মা শান্তি পাবে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ হবে।৭১-এর পরাজিত শক্তি মিথ্যা, মনগড়া বক্তব্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টিই তাদের উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা এসব গোষ্ঠীকে হুঁশিয়ার করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মের নামে সমাজে কোনো বিভেদ-বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া হবে না।বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে মাঠে নামা একদল মুসল্লিদের নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। সাফ জানিয়ে দেন, ধর্ম নিয়ে সমাজে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে দেয়া হবে না কাউকেই।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক মদদে সরকারকে ভ্রুকুটি দেখানোর পর্যন্ত ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। ১৯৭১’র পরাজিত শক্তির একটি অংশ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া বক্তব্য দিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে মাঠে নেমেছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার না করতে। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করেই এই অপশক্তি সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।’‘জাতির পিতা শুধু একজন খাঁটি মুসলমানই ছিলেন না, তিনি ধর্মীয় আচারাদি নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিপালন করতেন। তিনি যখন সংবিধান রচনা করেন, তখন মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা,গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র- এই চারটি মৌলিক বিষয়কে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৭৫-পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী সরকারগুলো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধগুলোকে জলাঞ্জলি দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিজেদের আসন চিরস্থায়ী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সামরিক জান্তা সঙ্গীনের খোঁচায় সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে, ইতিহাস বিকৃত করে, আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কালিমা লেপনের চেষ্টা করে।’

Share This Post