দিল্লির তৎকালীন আল্লাহর খাস বান্দাহ ও বিশিষ্ট বুযুর্গ খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী (রহঃ) যখন ইন্তেকাল করলেন তাঁর জানাযায় শরীক হওয়ার জন্য পঙ্গপালের মতো ছুটে এলো অসংখ্য মানুষ। বিশাল মাঠে জানাযার আয়োজন করা হলো, জনসমুদ্রে পরিণত হলো গোটা মাঠ, জানাযার সময় হলে একজন ঘোষক ঘোষণা করলেন , হযরত খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী (রহঃ) ইন্তেকালের পূর্বে আমাকে ওসিয়ত করে গেছেন, যার মাঝে চারটি গুণাবলি বিদ্যমান থাকবে অর্থাৎ যার মাঝে এই চারটি গুণ থাকবে তিনি যেন খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী (রহঃ) এর জানাযা পড়ান।

চারটি গুণাবলি হলোঃ-
১/ যার জীবনে কোনদিন তাকবীরে উলা (জামাতের প্রথম তাকবির) ছোটেনি,
২/ যার কোনদিন তাহাজ্জুদ কাযা হয়নি অর্থাৎ বাদ যায়নি !
৩/ যে কোনদিন গায়রে মাহরামের (পর নারীর) দিকে বদনজরে তাকাননি.!
৪/ এমন ইবাদতগুযার, যার কোনদিন আসরের সুন্নতও ছোটেনি.!

যে বাদশাহর জীবনে কখনো তাহাজ্জুদের নামায ছোটেনি!

একথা শোনার পর পুরো মাঠে নিরবতা ছেয়ে গেলো, সবাই নিস্তব্ধ! কে আছেন এমন.? এভাবেই কেটে গেলো বেশ কিছুক্ষণ, এরপর ভীড় ঠেলে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে এলেন একজন.! সবার দৃষ্টি তাঁর দিকে, ধীরে ধীরে জানাযার দিকে এগিয়ে এলেন.! লাশের মুখ থেকে চাদর সরিয়ে বললেন, কুতুবুদ্দীন! তুমি তো নিজে চলে গেলে কিন্তু আমাকেও অপদস্ত করে গেলে.! তারপর তিনি জনসম্মুখে আল্লাহ তা‘য়ালাকে সাক্ষী রেখে কসম খেয়ে বললেন, আমার মাঝে এই চারটি গুণ আছে.! জনতা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলো. আরে ! ইনি কে.? তিনি আর কেউ নয়, তিনি হলেন দিল্লির তৎকালীন বাদশাহ শামসুদ্দীন আল তামাশ (রহঃ).!

একজন বাদশাহ যদি নিজের সকল ব্যস্ততা সত্বেও এমন আবেদের জীবন যাপন করতে পারেন.!তাহলে আমরা যারা বিভিন্ন চাকরি বা ব্যবসা কিংবা অন্য কোন পেশায় নিয়োজিত, আমরা কি পারি না.? এভাবে নিজেকে ইবাদতে ব্যস্ত রাখতে.?

হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে বেশী বেশী ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Share This Post