Spread the love

প্রিয় কবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার একটি সঙ্গীতে লিখেছিলেন,

‘হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
দিলাম তোমার চরণ-তলে হৃদয় -জায়নামাজ।
(তব) চরণ-ছোঁয়ায় এই পাপীরে কর সরফরাজ।
তোমার ওজুর পানি মোছ আমার পিরান দিয়ে
আমার এ ঘর হোক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে।’

কিন্তু এখন সময় অনেক পাল্টেছে। কেউ আর নামাজীর জন্য হৃদয়-জায়নামাজ বিছিয়ে দিতে আগ্রহী নয়। এমনকি কখনো কখনো স্রেফ সৌন্দর্যবর্ধনের অযুহাতে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে মুমিনের সেজদার জায়গা। প্রাণের স্পন্দন মসজিদ। তবে মুমিন তো আর মহান প্রভূকে সেজদা না দিয়ে বসে থাকবে না। তাই প্রভূর পায়ে লুটিয়ে পড়ছেন স্বাধীন দেশের সোনাফলা প্রাণের মাটিতে। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে এমনই দেখা গেছে।

জানা যায়, সৌন্দর্যবর্ধনের অযুহাতে ২ ফেব্রুয়ারি সকালে বুলডোজার দিয়ে ধানমন্ডি লেকের ভেতরে থাকা আর রহমান জামে মসজিদটি ভেঙে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অথচ এই মসজিদে প্রতিদিন লেকে ঘুরতে আসা শতশত দর্শনার্থী নামাজ আদায় করতেন। ডিএসসিসি মুসল্লিদের এই প্রয়োজনের কথা বিবেচনা না করে মসজিদটি ভেঙে দিয়েছে। এতে মুসল্লিরা ও ধানমন্ডিবাসী ব্যথিত হয়েছে।

অপরদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, নামাজের জায়গা না পেয়ে মসজিদের ভাঙ্গা দেয়ালের পাশে মাটিতে নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সারাদেশে মসজিদ নির্মাণ করে চলেছেন। সেসব মসজিদে শুধু নামাজ আদায় নয়, ইসলামি গবেষণা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করা হচ্ছে। বিশ্বে এই প্রথম কোনো সরকার একসঙ্গে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করছে। সরকার যেখানে মুসল্লিদের জন্য মসজিদ নির্মাণ করছে, সেখানে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন একের পর এক মসজিদ ভেঙে চলছে।

তারা বলছেন, বর্তমান মেয়র আসার পর গুলিস্তানের মুক্তাঙ্গণ পার্কের ভেতরের মসজিদটিও ভেঙে দেয়া হয়। আমরা আহ্বান করব ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ যেন এই কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে। পাশাপাশি ভেঙে দেয়া মসজিদটি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে পার্কে আগত মুসল্লীরা বলছেন, ধানমন্ডি লেক এলাকার নকশাবহির্ভূত মসজিদটির স্থাপনা গত বছর ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় বাসিন্দা ও পার্কে আগত দশনার্থীদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবলা মসজিদটি নির্মাণ করে দেন। এজন্য গৃহায়ন ও গণপূর্তের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় লেকের নকশায় না থাকার অজুহাতে মসজিদটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। অথচ লেকের মধ্যে এমন অনেক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে যেখানে মদ, জুয়াসহ নানা অশালীন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু সেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। শুধু মসজিদটি কেনো ভেঙে দেয়া হয়েছে সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।

প্রসঙ্গত, এর আগেও এভাবে মসজিদ শূণ্য করা হয় হাতিরঝিলকে। এছাড়া মুক্তাঙ্গন, মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় খেলার মাঠ, বিনোদনের পার্ক ইত্যাদি সুন্দর্যবর্ধনের জন্য বেশ কয়েক জায়গায় মসজিদ ভাঙা হয়েছে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বলছেন, পার্কে নির্মিত মসজিদগুলো স্বাভাবিক আকারে ছোট। দূরদূরান্ত থেকে পার্কে আসা দর্শনার্থী মুসল্লীদের নামাজের সময় এই মসজিদগুলোতে মুসল্লীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সংকুলান হয়না। তাই যুক্তিসঙ্গত দাবি ছিলো পার্কের জায়গাগুলো থেকে কিছু জায়গা নিয়ে মসজিদগুলো আরো বড় করা। কিন্তু সেখানে পুরো বিপরীত কাজটি ব্যথিত করছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের।

Share This Post