হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হচ্ছে সুবর্ণজয়ন্তীর মতো আনন্দের দিন এতো দুঃখজনক কেটেছে।

দেশের মাটি দেশের ছেলেদের রক্তে রঞ্জিত হবে তা আমরা কেউ চায়নি। আমরা সরকারকে আগে থেকেই বলেছিলাম আনন্দের এই দিনে কসাই মোদি আসুক আমরা চাইনি।

তাকে দেশে এনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী কলঙ্কিত করবেন না। যার হাতে কাশ্মিরের মুসলিমদের রক্ত লেগে আছে, যে কাটাতারে ফেলানির মত অসংখ্য মানুষকে হত্যা করছে সেই নর ঘাতককে দেশে আনবেন না। কিন্তু আমাদের এই আবেদন প্রধানমন্ত্রীর কর্ণগূহরে প্রবেশ করেনি।

ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, জানি না আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোন দায়ে দায়বদ্ধ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে। যেই দায়ের ঋণ পরিশোধ করতে তিনি বাংলদেশের স্বাধীনতাকে কলঙ্কিত করে মোদিকে দেশে এনেছেন।

গতকাল আমার চারটি সন্তানের রক্ত ঝড়েছে। ঢাকার জাতীয় মসজিদে ঢুকে সরকারের ছাত্রলীগ ও সন্ত্রাস দল আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হেলমেট পরা সন্ত্রাসবাহিনী রাস্তায় মহড়া দিয়েছে।

কারা এই হেলমেট বাহিনী? আমরা তাদের পরিচয় জানতে চাই। দেশের স্বাধীনতা দিবসটিও যদি আপনারা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন! দেশের স্বাধীনতা ছিনতাই করেছেন, জনতার স্বাধীনতা ছিনতাই করেছেন।

এবার জনতা যদি রাস্তায় নেমে আসে তাহলে হেলমেট বাহিনী পালানোর সুযোগ পাবে না। দেশের পুলিশের কাজ জনগণের নিরাপত্তা দেয়া। আপনাদের কোনো দলের জন্য কাজ করতে দায়িত্ব দেয়া হয়নি।

এসময় আরো তিনি বলেন, গতকাল সবাই মিলে দেশের সুবর্ণজয়ন্তী পালনের জন্য হেফাজতি ইসলাম কোনো কর্মসূচি দেইনি। তাতে কি লাভ হয়েছে। বিনিময়ে আমরা কি পেলাম। আমাদের রক্ত ক্ষরণ হয়েছে।

আমরা আজ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। বাধ্য হয়ে আল্লামা জুনায়েদ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা হরতালে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।

স্পষ্ট বলতে চাই আজ এবং আগামীকাল তোমাদের সন্ত্রাসী বাহিনী যদি ভয়াল রাজত্ব বহাল রাখার চেষ্টা করে তবে সারা বাংলাদেশে আবারো যুদ্ধ হবে।

Share This Post