Spread the love

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার একটি নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক কামাল হোসেন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মারধর করে তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এতে তাঁর মুখ, মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও জখম হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদের ঘাগটিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত কামাল হোসেন বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি দৈনিক সংবাদ ও সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক শুভ প্রতিদিনের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

সাংবাদিক কামাল হোসেনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার ভিডিও প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। তাতে দেখা যায়, বাঁধা অবস্থায় তিনি আহাজারি করছেন। বেশ কিছু মানুষ তাঁকে ঘিরে আছে। তাঁর কপাল থেকে রক্ত ঝরছিল। তাঁর হাতের বাঁধন একটু হালকা করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর দোয়াই দিয়ে অনুরোধ করছেন তিনি। পাশে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে নিয়ে তখন উপহাস করছিলেন।

বিজ্ঞাপন

দৈনিক সংবাদের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি লতিফুর রহমান বলেন, কামাল হোসেন দৈনিক সংবাদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। খোঁজ নিয়ে দেখছেন কেন ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাদুকাটা নদের তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি নিতে সোমবার দুপুরে ওই এলাকায় যান কামাল হোসেন। সেখানে কয়েকজন তাঁকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ব্যক্তিরা পরে তাঁকে ধরে নিয়ে যান পাশের চকবাজারে। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় আরেক সাংবাদিক ও কামাল হোসেনের পরিবারের লোকজন এলাকার বাদাঘাট ফাঁড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামাল হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি যাদুকাটা নদের তীর কেটে বালু উত্তোলনের ছবি তুলে পাশের একটি দোকানে বসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এমন সময় ঘাগটিয়া গ্রামে মাহমুদ আলী শাহ, দীন ইসলাম ও রইস উদ্দিন এসে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। তাঁর কাপালে দা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। পরে তাঁকে ধরে এনে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। কামাল হোসেন আরও বলেন, তাঁকে মারধরের সময় ওই ব্যক্তিরা বলছিলেন, সাংবাদিকেরা নিউজ করলেই নাকি নদে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এ জন্য তাঁরা আজ তাঁকে শেষ করে ফেলবেন। পরে যা হওয়ার হবে। হামলাকারীরা তাঁর মুঠোফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঘাগটিয়া গ্রামের মাহমুদ আলী শাহ বলেন, নদীর বালু কোয়ারি সরকারিভাবে বন্ধ। এখন এলাকার গরিব-দিনমজুর লোকজন টুকরি দিয়ে বালু তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন। কামাল গিয়ে তাঁদের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি প্রশাসন ও পুলিশ ম্যানেজ করবেন। তাঁকে টাকা না দিলে নাকি লোকজন এসব কাজ করতে পারবে না। এ নিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্রমিকেরা তাঁকে কিছু মারধর করেছেন। তাঁরা মারধর করেননি।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কামাল হোসেনকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন তাঁকে এভাবে মারধর ও বেঁধে রাখা হয়েছিল, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Share This Post