টঙ্গীতে সূরা মুলক মুখস্ত করে পুরস্কার পেলেন ২০ কিশোর-কিশোরী। পুরস্কার প্রাপ্তদের সবাই স্কুল পড়ুয়া।গত শুক্রবার (৫ নভেম্বর) স্কুল পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীদের মাঝে সূরা মুলক মুখস্থ প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান করা হয়।

টঙ্গী কলেজ গেট দত্তপাড়া হাসান লেনের আন নূর জামে মসজিদ ও মাদরাসা আবু রাফে (রা.)  কমপ্লেক্সের উদ্যোগে কিশোর কিশোরীদের জন্য এই অভিনব পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। এর মূল উদ্যোক্তা ও আইডিয়ায় রয়েছেন মসজিদটির খতিব ও মাদ্রাসাটির পরিচালক মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব।

তিনি বলেছেন, হাদিস শরীফে বলা হয়েছে সূরা মূলক জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। তাই আমাদের সন্তানদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর করণীয় হিসেবে সূরা মূলক মুখস্তের কথা বলা হয়। এবং যারা মুখস্ত করবে তাদের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

২ মাস আগে দেওয়া এই ঘোষণার পর প্রায় ৫০ জন সূরা মূলক মুখস্ত করেছে। তবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে ২০ জন কিশোর-কিশোরী। পরবর্তীতে নাম রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে মাদরাসা আবু রাফে (রা.) -এর শিক্ষকদের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

কিশোর কিশোরী ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মজীবী মুসল্লিও মুখস্থ করেছেন ফজিলতপূর্ণ সূরাটি। প্রতিযোগিতায় চারজন কিশোরী অংশ নিয়েছেন। তাদের পক্ষে তাদের বাবারা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।

প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া পুরস্কার বিজয়ী জাবিদ হাসান যাকী নামে একজন কিশোর সূরা মুলক মুখস্থ করার পর সেই উৎসাহে ইতোমধ্যে সূরা রহমান, ওয়াকিয়া, ইয়াসিনসহ সূরা কাহফের শুরু ও শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করে ফেলেছে। সে ইতোমধ্যে পুরো কুরআন কারিম মুখস্থের নিয়ত করেছে।

উদ্যোক্তা মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে একটি উপমা তৈরি করতে; স্কুলপড়ুয়া মেধাবী ছেলেমেয়েরাও ইনশাআল্লাহ হাফেজ-হাফেজা হবে।

কিশোর-কিশোরীদের সূরা মুলক মুখস্থ প্রতিযোগিতা ছাড়াও আন নূর জামে মসজিদ মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্স প্রায় সব সময় বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।

এর আগে সিরাত পাঠের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর অধীনে প্রায় ৬০০ মানুষ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিরাত-এর উপর রচিত রাহীকুল মাখতুম কিতাবটি কিনেছেন। পড়েছেন প্রায় হাজারের উপরে মানুষ।

এছাড়া রমজানে স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিশুদের কুরআনমুখী করতে বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে থাকে যারা রমজানে কুরআন শরীফ খতম করতে পারবে তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা।

মসজিদটি শিশুদের জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকে। এতে প্রায় প্রতি ওয়াক্তের নামাজে দুই, আড়াই কাতারের মত শিশু অংশগ্রহণ করে।

মসজিদ কেন্দ্রিক মক্তবে প্রতিদিন দেড় শতাধিক কোমলমতি শিশু পড়াশোনা করে। এছাড়াও বাদ এশা ৫০ জনের মত মধ্য বয়স্ক মানুষ কুরআন পড়েন।

মসজিদটির ইমাম মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব প্রতিদিন বাদ ফজর মুসল্লীদের একটি করে হাদিস পড়ে শোনান। প্রায় ৫ ওয়াক্তই বিভিন্ন আমল চালু থাকে টঙ্গী কলেজ গেট দত্তপাড়া হাসান লেনের আন নূর জামে মসজিদে।

মসজিদের খতিব একইসঙ্গে সাংবাদিক ও সৃজনশীল লেখক হওয়ায় এধরনের সৃজনশীল উপকারী উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে বোদ্ধা ও শিক্ষিত অভিভাবকমহলে প্রশংসিত হয়েছেন।

জুমার নামাজে সংক্ষিপ্ততম সময়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কমপ্লেক্সটির মুতাওয়াল্লি আলহাজ্ব আব্দুল বারী, সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল ও সহ-সভাপতি প্রফেসর হারুন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মসজিদ ও মাদ্রাসার স্টাফবৃন্দ।

Share This Post