‘৯ লাখ টাকার ঋণে দিশেহারা’ ছিলেন নিজের বাইকে আগুন দেয়া পাঠাওয়ের সেই বাইক রাইডার। করোনার কারণে আর্থিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং কিছু মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে আজ তিনি মামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের বাইকে আগুন দেন।

শওকত আলী (৪৬) নামের ওই ব্যক্তির মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ভিডিওটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পরে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, তার ৯ লাখ টাকার ঋণ ছিল। বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে তিনি বিধ্বস্ত ছিলেন।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় আজ সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড্ডা লিংক রোডে এসে দাঁড়িয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন শওকত আলী। এ সময় ট্রাফিক সার্জেন্ট এসে তার কাগজপত্র নিয়ে যায়। মামলা না দিতে অনুরোধ করে পুলিশের কাছে গাড়ির কাগজপত্র ফেরত চান তিনি। কাগজপত্র ফেরত না পেয়ে হতাশ হয়ে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

পুলিশ জানায়, কাগজপত্র নিলেও তার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেয়নি পুলিশ। মামলা দেওয়ার আগেই তিনি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন।

ঘটনার পর পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল ও শওকতকে বাড্ডা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে শওকত গণমাধ্যমকে বলেন, ‌‘আমার নিজের ইচ্ছায়ই গাড়ি (মোটরসাইকেল) জ্বালাইছি। এতে তো আমারই ক্ষতি হলো। রাগ করতে গিয়ে নিজের গাড়িই জ্বালিয়ে দিলাম। পুলিশের কোনো দোষ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জে ব্যবসা করতাম। দেড় মাস ধরে পাঠাও চালাই। গত সপ্তাহেও আমাকে একটা মামলা দেওয়া হয়েছিল। আজ ট্রাফিক পুলিশ আবারও মামলা দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।’

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছি তা জানতে চেয়েছে। এখন আমি এলাকায় চলে যাচ্ছি। আমি এ ঘটনায় অনুতপ্ত।’

এর আগে এ নিয়ে গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অফিস আওয়ারে গুলশানের লিংকরোডে যানজট হয়। মোটরসাইকেলগুলো রাস্তার পাশে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে রাখে, এতে গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

Share This Post